এবার নিজকে ‘সিক’ ঘোষনা করলেন বিমান কেবিন ক্রু রাহা

এভিয়েশন নিউজ : বহুল আলোচিত বিমান কেবিন ক্রু রাহা রোববার কোন ফ্লাইট করেননি। সকালে ফ্লাইট থাকলেও তিনি ফ্লাইটে যাননি। জানাগেছে ফ্লাইটের আগে তিনি নিজকে সিক (অসুস্থ) ঘোষনা করেছেন। তবে অসুস্থ থাকলেও তিনি বিমানে এসেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে।

বিকালে সিডিউলিং বিভাগে এসে নিজের সিক ডিক্লারেশনের কাগজ দিয়ে যান। নিয়ম অনুযায়ী বিমানে কোন ক্রু নিজকে সিক ঘোষনা করলে তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিতসকের পরামর্শ পত্র দিতে হয়। একারণে তিনি বিমানের প্রধান চিকিতসক (সিএমও) ডা. তাসলিমার কাছে যান বিকালে। ডা. তাসলিমা তাকে আরো কিছুদিন তার পর্যবেক্ষনে থাকার পরামর্শ দেন। সিডিউলিং বিভাগ সুত্রে জানাগেছে এই অবস্থায় রাহার ফ্লাইটে আসতে আরো কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

তবে রাহার এই রহস্যজনক সিক ঘোষনার পেছনে অন্য কোন রহস্য আছে কিনা সেটা জানা যায়নি। বিমানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সকালেই কতৃপক্ষ রাহাকে ফ্লাইট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিষয়টি রাহা জানতে পেরে আগেই নিজকে সিক ঘোষনা করেন। আইন অনুয়ায়ী এখন রাহার বিরুদ্ধে বিমান কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে অবশ্যই আগে রাহাকে সুস্থ হয়ে কাজে যোগদান করতে হবে। তারপরই ম্যানেজমেন্ট তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

জানাগেছে রোববার বিকালে রাহা পরিচালক কাস্টমার সার্ভিস আতিক সোবহানের সঙ্গে দেখা করার জন্য তার অফিসে যান। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরে বাড়ি ফিরে আসেন।

উল্লেখ্য অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানের কেবিন ক্রু মেহনাজ তাবাস্মুম রাহাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গভীর রাতে তার কক্ষ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে লন্ডন প্রবাসী সাদ বিন মুরাদ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকেও। গত ১১ ফেব্র“য়ারী গভীর রাতে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ভাওয়াল রিসোর্টের ৩০৭ নম্বর স্যুট থেকে এই দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশের এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে দুই আসামী স্বামী-স্ত্রী না হওয়ার পরও ভাওয়াল রিসোর্টের একই কক্ষে রাত্রি যাপন করেন। বিশ্বস্ত সুত্রে খবর পেয়ে পুলিশ রাত ২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় দেখেন। পুলিশের জাবাবে তারা একেক সময় একেক নাম ঠিকানা এবং একই কক্ষে থাকার বিষয়ে কোন ধরনের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। একারণে রাতেই দুজনকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গ্রেফতারের পর দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

পরে মুসলেকা ও জরিমানা দিয়ে ছাড়া পান বলে জানা গেছে। বিমানের আইন অনুযায়ী এধরনের কোন ঘটনা ঘটলে অবশ্যই তা বিমান ম্যানজমেন্টকে অবহিত করণের কথা ছিল রাহার। কিন্তু তা না করে তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। আইন অনুযায়ী যে কোন ফৌজদারি দন্ডবিধির জন্য সরকার চাকুরীজীবীর বড় ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.