এয়ারলাইনগুলোর লোকসান ২৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়াবে

২০০৮ সালের মন্দার পর প্রথম সংকটে এ খাত

করোনার ধাক্কা আকাশপথে যাত্রী পরিবহন কমেছে ৯০ শতাংশ, ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর প্রথম সংকটে এ খাত

জোবায়ের অভি : করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ খাতগুলোর মধ্যে বিমান পরিবহন অন্যতম। এরই মধ্যে তাদের যাত্রী পরিবহন কমে তলানিতে ঠেকেছে। কর্গো বিমান চলাচলেও বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রধান এয়ারলাইনগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রায় ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ফলে এসব সংস্থার আয় অনেক কমে যাওয়ায় প্রচুর লোকসান গুনতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ (আইএটিএ) বলছে, এই ক্ষতির পরিমাণ ২৫০ বিলিয়ন বা ২৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। খবর রয়টার্স।
আইএটিএ এক বিবৃতিতে জানায়, ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে আকাশপথে গত তিনমাসে যাত্রী পরিবহন কমে গেছে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি। আইএটিএ’র ধারণা ছিল, এ বছরও বিমানের যাত্রী চাহিদা বাড়বে। তবে সেই বক্তব্য সংশোধন করে তারা জানিয়েছে, গত এক দশকের মধ্যে, অর্থাৎ ২০০৮-০৯ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর থেকে প্রথমবারের মতো এ বছর যাত্রী পরিবহন কমছে। আইএটিএ বলছে, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় এয়ারলাইনগুলোর এ ক্ষতি মুখে পড়েছে। এ সংকট আরও র্দীর্ঘায়িত হলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে।
বিশ্বের প্রধান এয়ারলাইনগুলো যাওয়া-আসার প্রায় সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। করোনাভাইরাস বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচলে মারাÍক প্রভাব ফেলেছে। প্রতিদিনই যাত্রীসংখ্যা কমছে। তাই খরচ কমাতে বৃহদাকার উড়োজাহাজের পরিবর্তে ছোট উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রী বহন করছিল বিমান সংস্থাগুলো। কিন্তু তাতেও লোকসানের বোঝা কমাতে পারছিল না। তাই ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়েছে সংস্থাগুলো।
আইএটিএ’র এই সতর্কবাণীর সত্যতা এরই মধ্যে অনুভব করতে শুরু করেছে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক বিমান সংস্থা আমেরিকান এয়ারলাইনস দেশটির সরকারের কাছে ১২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েচে। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা কান্তাস এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, করোনা সংকটে এই আর্থিক বছরের দ্বিতীয়ভাগে তাদের কর-পূর্ব মুনাফা দশ কোটি মার্কিন ডলার কম হতে পারে। এছাড়া এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে ফেব্র“য়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে তাদের আয় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার কমে যাবে।
আইএটিএ’র মহাপরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আলেকজাঁদ্র দ্য জুনিয়াক বলেন, কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগ)-এর কারণে চাহিদার তীব্র মন্দায় বিমান সংস্থাগুলোতে, বিশেষ করে চীনা বাজারের সংস্পর্শে আসাদের ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে। ২০২০ সাল এয়ারলাইনগুলোর জন্য ‘খুব কঠিন একটি বছর’ হতে চলেছে বলেও জানান তিনি।

সুত্র – রয়টার্স

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.