করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের তিন সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো ঢাকা ছাড়লেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা। শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ উড়োজাহাজে শনিবার ( ৯ মে) ২২০ জন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটিতে আটজন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন। অপর দিকে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া আরো ১৫৭ বাংলাদেশি।
ঢাকায় অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন জানায়, হাইকমিশন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যেতে সহায়তা করেছে। এতে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্মকর্তারা। এর আগে ১৬ এপ্রিল প্রথম দফায় ২৮৫ জন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ফিরে যায়। এ নিয়ে ৫০০ জনের বেশি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন।
ফ্লাইট ছাড়ার আগে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিদায়ী যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিমানবন্দরে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর কারণে বাংলাদেশে বেশিরভাগ যাত্রীবাহী বিমান চলাচল স্থগিত রয়েছে। আমরা নিরলস চেষ্টা করছি, যাতে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক দেশে ফিরতে পারে। হাইকমিশনার আরও বলেন, শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ তাদেরকে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছাতে সহায়তা করার জন্য।
দেশে ফিরলেন ১৫৭ বাংলাদেশি:
করোনা ভাইরাসের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অস্ট্রেলিয়ায় আটকে পড়া ১৫৭ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মেলবোর্ন থেকে শ্রীলংকান এয়ারলাইনসের বিশেষ বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ক্যানবেরায় বাংলাদেশের হাইকমিশন ও অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এবং ভিক্টোরিয়ান বাংলাদেশি কমিউনিটি ফাউন্ডেশন (ভিবিসিএফ) এবং মেল্টন ট্রাভেল সেন্টারের (যে প্রতিষ্ঠানকে যাত্রীদের মধ্যে সমন্বয়, তহবিল সংগ্রহ ও টিকেটের কাজ পরিচালনার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল) সক্রিয় সহযোগিতায় ওই বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা সহজ হয়েছে।
ঢাকায় অবস্থিত দেশটির দূতাবাসের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনার কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় অস্ট্রেলিয়াতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা দেশে ফিরতে চায় কিনা সেটি প্রাথমিকভাবে জানার জন্য নোটিশ দেয় দূতাবাস। ৩৪০ জন এতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পরে সিডনি থেকে ঢাকা আসার জন্য একটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয় দূতাবাস। কিন্তু ওই ফ্লাইটে অনেকে অনাগ্রহ দেখালে শ্রীলংকান এয়ারলাইনসের ছোট একটি প্লেনের ব্যবস্থা করা হয়।
