ইরানি হামলার হুমকির মধ্যেও সচল দুবাইয়ের আকাশপথ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ১২ জুলাই সকালে ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছে ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন এলাকায় শোনা যাওয়া বিস্ফোরণের শব্দ মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

তবে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো এখনো খোলা রয়েছে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু বিমানবন্দর সীমিত সময়সূচিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং বেশ কিছু ফ্লাইট বিলম্বের মুখে পড়েছে।

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে সীমিত ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণ সচল থাকলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশি ও আকাশসীমার বিধিনিষেধের কারণে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও খোলা রয়েছে এবং মূলত আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে কার্গো হ্যান্ডলিং ও স্থলসেবায় কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আঞ্চলিক জিপিএস সিগন্যাল বিঘ্নের বিষয়েও সতর্ক করেছেন।

ইউএইর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সর্বশেষ ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ এবং ফ্লাইটের অবস্থা নিয়মিত যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি আরও কঠোর করা হয়েছে। যাত্রীদের সরকারি মোবাইল সতর্কবার্তা সক্রিয় রাখার এবং বিমানবন্দরে নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতির কারণে চেক-ইন, নিরাপত্তা পরীক্ষা ও পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন সাময়িকভাবে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। অন্যদিকে, ইউএইভিত্তিক এয়ারলাইনগুলো অতিরিক্ত সতর্কতা ও কিছু বিধিনিষেধের মধ্যে সেবা অব্যাহত রেখেছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা হেল্পলাইনের মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়া উচিত। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সামগ্রিকভাবে, আঞ্চলিক উত্তেজনা সত্ত্বেও ইউএইর বিমানবন্দরগুলো এখনো চালু রয়েছে। তবে ভ্রমণকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং সম্ভাব্য বিলম্বের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.