অবৈধভাবে ইতালিতে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। চলতি বছরই অবৈধভাবে ইতালিতে ঢুকেছে ৯৩৪ জন বাংলাদেশি। করোনা ভাইরাসের মধ্যে ইতালির সমুদ্র বন্দর নিরাপদ মনে করায় সেখানে অবৈধ অভিবাসীদের ঢল নামে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়েই স্বপ্নের ইউরোপে প্রবেশের জন্য অবৈধভাবে সমুদ্র পথকে বেছে নেন অধিকাংশ অভিবাসন প্রত্যাশী। গোটা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস মহামারির বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন এক শ্রেণীর লোক এই সুযোগে অবৈধভাবে সাগর পথে প্রবেশ করছে ইতালিতে।
তিউনিসিয়া এবং লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে থেকে বিপুল সংখ্যক শরণার্থী আসছে প্রতিদিন। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিকও। এতে সাগরে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমানোর আশায় মানব পাচারকারীদের হাতে আটকে পড়া ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনের মৃত্যুতে ইতালিতেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে বরাবরই অবৈধভাবে ইতালি প্রবেশের বিরুদ্ধে দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি।
তিনি বলেন, ‘ইতালিয়ান নাগরিকরা আমাকে ভোট দিয়েছে, কারণ আমি আশ্বাস দিয়েছিলাম ইতালিতে অবৈধভাবে শরণার্থী প্রবেশ বন্ধ করব।, মানবপাচার বন্ধ করার বিষয়ে আমি কথা রেখেছি। তারপরও মানবপাচার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে।
ইতালি বাংলাদেশ সমিতি সভাপতি আফতাব বেপারী জানান, কমিউনিটির নেতারাও অনুপ্রবেশ নিরুৎসাহিত করে আসছেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিদের অনুরোধ করবো আপনারা কেউ অবৈধ পথে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আসবেন না।’
চলতি বছরে ইতালিতে অবৈধ শরণার্থী প্রবেশ করেছে ৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি ৯৩৪ জন। ২০১৯ সালে ইতালিতে অবৈধ শরণার্থীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে মোট ১৫৬১ জন। তবে ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৪৩০ জন।
