ইতালিতে ১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে অবৈধদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া। অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার বিষয়ে ইতালি সরকারের নতুন আইনের বিরোধিতা করে দেশটির বিভিন্ন শহরে মানববন্ধন করেছে লাখ লাখ অভিবাসী।
রোববার (৩১ মে) ইতালির বিভিন্ন শহরে মানববন্ধনসহ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন তারা।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য মতে দেশটিতে রয়েছে প্রায় ৭ লাখ অবৈধ অভিবাসী। হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি বৈধতার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষায় রয়েছেন। সঠিক হিসাব না থাকলেও ধারনা করা হয়, ইতালিতে রয়েছে ৪০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি। সরকার বৈধকরণের জন্য প্রধান দুটি খাতকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। আর সেগুলো হল- কৃষি ও বাসা বাড়ির কাজের সঙ্গে বয়স্কদের সেবা করা। কিন্তু দেশটিতে লক্ষ লক্ষ অবৈধ অভিবাসী কাজ করেন দোকান-পাট, শিল্প কারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। এ সকল খাতে নিয়োজিত কর্মীরা বর্তমান আইনে বৈধতা পাবার যোগ্য হবেন না। আর এজন্য এই প্রতিবাদ কর্মসূচি।
রোববার দুপুরে ইতালির উত্তর পূর্বাঞ্চলের ভেনিস প্রদেশের মেসরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে করোনার এমন পরিস্থিতিতেও উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭ শতাধিক মানুষ। এই মানববন্ধনে ইতালিয় নাগরিক, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশের মানুষ ছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন সৈয়দ কামরুল সারোয়ার, বিল্লাল হোসেন ঢালী, কাজী রনাক, তাহের খান, সোহেলী আক্তার বিপ্লবী, রফিক সৈয়াল, মোস্তাক আহাম্মদ, তাজুল ইসলাম, মোবারক হোসেন, ইব্রাহীম জমাদার, শহীদুল ইসলাম ও আরফান মাস্টারসহ আরও অনেকে।
আগামী ৩ জুন হতে ইতালির বর্ডার খুলে দেয়ার কথা রয়েছে। ইতালির দক্ষিণ, পূর্ব, উত্তর-পূর্ব সাগর উপকূল দিয়ে নৌ-পথে প্রবেশ করছে আফ্রিকা, এশিয়ার হাজার হাজার অভিবাসী। গত ৮ বছরে এসব সাগর পথে ইতালিসহ ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে নৌকা ডুবিতে মৃত্যু বরণ করেন কয়েক হাজার অভিবাসী। যার মধ্যে রয়েছে শত শত বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশী।
