দীর্ঘ বিরতির পর এক মাস ধরে দেশের অভ্যন্তরীন রুটের ফ্লাইট চলাচল করছে।
ক্রমেই দিন যত যাচ্ছে, যাত্রীসংখ্যা ততই যেন কমছে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হলেও
যাত্রী মিলছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে আকাশপথে যাত্রী মিলছে না।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান গত
বুধবার বলেন, ‘দেশের করোনা রেট উঁচু হচ্ছে।
মানুষের মধ্যে তাই শঙ্কা আছে। একেবারে প্রয়োজন ছাড়া ফ্লাইটে ভ্রমণ করছে না।
তারপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে কিছু যাত্রী আসছেন। যাত্রীদের আস্থা আসবে। একটু সময় লাগবে।’
করোনাভাইরাস মহামারি ঠেকাতে গত ২১ মার্চ থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় বেবিচক।
তবে গত ১ জুন ঢাকা থেকে সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে সীমিত পরিসরে ৭৫ শতাংশ যাত্রী নেওয়ার শর্তে ফ্লাইট চলাচলে অনুমতি দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস ও নভোএয়ারকে আসা-যাওয়া মিলিয়ে ৪৮টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা ছিল।
কিন্তু যাত্রীসংকটের কারণে ১ জুন ঢাকা-সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে দুটি ফ্লাইট চালিয়ে বিমান আর আকাশে ওড়েনি।
১১ জুন থেকে যশোরে ফ্লাইট চালু হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং যাত্রীসংখ্যা পড়তির দিকে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত প্রথম ৮ দিনে ২২৩টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ২২০ জন যাত্রী ঢাকা থেকে চলাচল করেছেন।
এর মধ্য ঢাকায় এসেছেন ৩ হাজার ৮১০ জন যাত্রী।
ঢাকা ছেড়ে গেছেন ৩ হাজার ৪১০ জন। গড়ে প্রতিদিন আকাশপথে চলাচল করেছেন ৯০২ জন।
আর গড়ে প্রতি ফ্লাইটে যাত্রী ছিল ৩৩ জন।
পরবর্তী দিনগুলোয় যাত্রীসংখ্যা আরও কমতি দিকে থাকে। ৮ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে ৯ হাজার ১৩৮ জন যাত্রী চলাচল করেছেন।
গড়ে প্রতিদিনের যাত্রী ছিল ৮০৩ জন। এই ১১ দিনে ৩২৯টি ফ্লাইট চলছে। প্রতি ফ্লাইটে যাত্রীর গড় ছিল ২৭ দশমিক ৭৭।
১৮ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল করেছে ৫১৮টি, যাত্রী ছিল ১২ হাজার ২৭৫ জন। জুন মাসের শেষ ১৩ দিনে গড়ে প্রতি ফ্লাইটে যাত্রী ছিল ২৩ দশমিক ৬৯ জন। সব মিলিয়ে পুরো জুন মাসে অভ্যন্তরীণ রুটে ১০ হাজার ৫০টি ফ্লাইট চলাচল করেছে। যাত্রী ছিল ২৮ হাজার ৬৩৩ জন। পুরো জুন মাসে প্রতি ফ্লাইটে গড়পড়তা যাত্রী ২৭ জন।