করোনায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ, ক্ষতির মুখে প্রবাসীরা

কাতার প্রবাসী চট্টগ্রামের ফয়েজ আহমেদ ছুটিতে দেশে গিয়ে আটকা পড়েছিলেন।
পাঁচ মাসের ছুটির স্থলে কেটে গেছে তার ১৭ মাস।
এর মধ্যে শেষ হয়ে গেছে কাতার কর্মস্থলের আইডির মেয়াদ।
গত মার্চে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনরায় কাতার ফিরে যাওয়ার বন্দোবস্ত শুরু করেন তিনি।

৮০ হাজার টাকা খরচ করে নতুন করে টিকিট করেছেন।
প্রায় ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে কাতার গিয়ে কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য একটি হোটেলেও বুকিং দিয়েছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে ১৮ এপ্রিল করোনাভাইরাস পরীক্ষার নমুনা দিয়ে ২১ এপ্রিল ইউএস বাংলার ফ্লাইট ধরে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল তার।
কিন্তু এর মধ্যেই দেশে করোনার প্রকোপ বাড়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক রুটের সব ফ্লাইট। এতে করে দেশে ১৭ মাস আটকে থাকা ফয়েজ আহমেদের যাত্রা পুনরায় অনিশ্চয়তার বেড়াজালে আটকে গেছে।

তার মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী আহমেদ উল্লাহ গত ২৫ অক্টোবর দেশে ছুটিতে গিয়েছিলেন।
আবুধাবি ফিরতে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হলে অপেক্ষার সময় বাড়ে তার। সর্বশেষ অনলাইনে আবেদন করে ‘সবুজ সংকেত’ মিলে আহমেদ উল্লাহর। দেশটিতে একটি প্রতিষ্ঠানের পার্টনার হিসেবে কর্মরত তিনি। আমিরাত ফেরার অনুমতি পেয়ে চড়া মূল্যে টিকিট কিনেছেন বাংলাদেশ বিমানের।
১৭ এপ্রিল আবুধাবির উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার কথা ছিল তার।
কিন্তু তা আর হচ্ছে না এখন।

 

আন্তর্জাতিক রুটের সব ফ্লাইট বন্ধ করায় তাদের মতো এমন হাজার হাজার প্রবাসীর নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
টিকিটের মূল্য কিংবা হোটেল বুকিংয়ের টাকা ফেরত নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।
এর চেয়েও বড় ভয়ের আশঙ্কায় থাকা প্রবাসীরা সমকালকে জানান, ওইসব দেশে তাদের ভিসা, আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। যথাসময়ে ফিরতে না পারলে এগুলো নবায়ন করাও সম্ভব হবে না।
এমনকি হয়তো তারা আর ফিরেও যেতে পারবেন না সেসব দেশে।

আরও খবর
Loading...