গ্রিসে ‘অনুপ্রবেশের দায়ে’ এক সিরীয় শরণার্থীর ৫২ বছরের জেল

গ্রিসে অবৈধ ‘অনুপ্রবেশের দায়ে’ এক সিরীয় শরণার্থীকে দেশটির লেসবস দ্বীপের একটি আদালত ৫২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে দণ্ডিত ওই শরণার্থীর নাম প্রকাশ না করে বলা হয়, সিরিয়ার ওই শরণার্থী তার স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ২০২০ সালের মার্চে তুরস্ক থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসের ওই দ্বীপটিতে এসে আশ্রয় নেন। এ সময় তাদের সঙ্গে নৌকায় করে আরও ৪০ শরণার্থী গ্রিসের দ্বীপটিতে এসেছিল।

দেশটিতে আশ্রয় প্রার্থনা করলে তার ওই আবেদন নাকচ করে তার বিরুদ্ধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আদম পাচার এবং নৌকাডুবিতে মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয়।

আদালতে তার বিরুদ্ধে নৌকাডুবিতে প্রাণহানি এবং আদম পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৫২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

হতভাগ্য ওই শরণার্থীকে জেলে পাঠালেও তার স্ত্রী-সন্তানরা আছেন শরণার্থী শিবিরে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে পালিয়ে প্রথমে তুরস্কে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন দণ্ডিত ওই শরণার্থী। সেখানে তুর্কি সরকার তাকে লিবিয়ায় সেনা অভিযানে অংশ নিতে বলেছিল। কিন্তু তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জেলে বন্দি করা হয়। সেখান থেকে ছাড়া পেয়েই তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গ্রিস পাড়ি জমান। কিন্তু এখানে এসে তার কপালে জুটল ৫২ বছরের কারাদণ্ড।

গ্রিসের এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।

আজিয়ান সাগর থেকে উদ্ধার করা শরণার্থীদের জোর করে বের করে দেওয়া আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় আইনের লঙ্ঘন বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.