আফ্রিকায় বাংলাদেশের আই সি টি কোম্পানি ড্রিম ৭১ এর জালিয়াতি

আফ্রিকায় বাংলাদেশের আই সি টি কোম্পানি ড্রিম৭১ এর জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ড্রিম ৭১ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জি. রাশাদ কবির বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, জিম্বাবুয়ের কুল ইমাম অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নায়াশা ফ্রিম্যানের সাথে ড্রিম৭১ বাংলাদেশ লিমিটেডের (হাউস নং-১৬ (লেভেল ৪), বসুন্ধরা আ/এ, মেইন রোড, ব্লক-এ, ঢাকা-১২২৯) ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদ কবিরের সঙ্গে গত ২০২০ সালের ৭ এপ্রিল চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এই চুক্তি অনুসারে, ৯,৩০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে কুল ইমাম অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের জন্য একটি ওয়েবসাইট এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করে দেবে ড্রিম৭১ বাংলাদেশ লিমিটেড।

তবে, কাজটি পাওয়ার পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইট এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করতে ব্যর্থ হলেও কাজের পেমেন্ট হিসেবে প্রদান করা অগ্রিম অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না।

সম্প্রতি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের কাছে ই-মেইলের সঙ্গে সংযুক্ত করে চুক্তি স্বাক্ষরের অনুলিপি, চুক্তি বাতিলের চিঠি, অডিও ক্লিপ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত নথি পাঠিয়ে এমনই অভিযোগ করেছেন কুল ইমাম অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের কর্ণধার নিয়াশা ফ্রিম্যান।

তার পাঠানো ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইট এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করে দিতে ব্যর্থ হয়েছে ড্রিম৭১। শুধু বিলম্ব নয় কাজটি করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতার অভাব ও চুক্তিতে বর্ণিত অনেকগুলো ধারা লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে উপায়ন্তর না দেখে এই প্রকল্পের বিনিয়োগকারী চুক্তিটি বাতিল করতে বাধ্য হন।

চুক্তি অনুসারে  ড্রিম ৭১’কে ওয়েবসাইট এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরির কোটেশন মূল্যের ৯,৩০০ মার্কিন ডলারের ৫০ শতাংশ (৪,৬৫০ মার্কিন ডলার) প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি। বাকি অর্থের মধ্যে ইউজার অ্যাসেপ্ট্যান্স টেস্ট শেষে ৩০ শতাংশ এবং কুল ইমাম অ্যাপের সফল ডেভেলপমেন্টের পর ২০ শতাংশ প্রদান করার বিষয়ে চুক্তি হয়।

চুক্তি অনুসারে, নায়াশা ফ্রিম্যান কাজের শুরুতে ৪,৬৫০ মার্কিন ডলার প্রদানও করেছেন। এখন নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি ড্রিম৭১। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অগ্রিম হিসেবে দেওয়া অর্থও ফেরত দিচ্ছেন না। ড্রিম৭১ বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পেতে বিভিন্নভাবে তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন নায়াশা ফ্রিম্যান। সংশ্লিষ্ট দেশের অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের কাছে অভিযোগ করে দাবি করছেন।

এই ধরনের কার্যকলাপ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের সফটওয়্যার খাতকে বিদেশে কলঙ্কিত করছে। এই ধরনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগের কারণে জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের কাজ করা এবং কাজ পাওয়া বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জ হবে। ব্যবসার জন্য নিজের দেশ বা দেশের সফটওয়্যার খাতকে ছোট করা হীন মানসিকতার পরিচয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.