জানেন কি ব্ল্যাকবক্স কী, তার কাজটাই বা কী?
ধাতব দুটি বিরাট বাক্স, যার মধ্যে থাকে রেকর্ডার। প্রায় সব বিমানেই থাকে। একটি থাকে সামনের দিকে, আর একটি থাকে পিছনে।
রেকর্ডারের কাজটা হল ফ্লাইটের সমস্ত তথ্য রেকর্ড করে যাওয়া।
যদি কোনও বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে, ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করে, ভিতরের রেকর্ড চালিয়ে শেষ সময়ের কথাবার্তা শুনে দুর্ঘটনার কারণ বোঝা যায়।
তাই ব্ল্যাকবক্সকে আসলে বলে ফ্লাইট রেকর্ডার। যেটি ককপিটে থাকে, সেইটি হল– ককপিট ভয়েস রেকর্ডার, যা কিনা রেডিও বার্তা এবং ককপিটের অন্যান্য শব্দ, যেমন পাইলটদের কথাবার্তা, ইঞ্জিনের আওয়াজ ইত্যাদি রেকর্ড করে।
আর পিছনে যে থাকে, তাকে বলে– ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার।
এটি আশিরও বেশি ধরনের তথ্য রেকর্ড করে রাখতে পারে।
যেমন কত উচ্চতায় রয়েছে বিমান, কী তার গতিবেগ, কোন দিকে যাচ্ছে ইত্যাদি। বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ব্ল্যাকবক্স থাকা বাধ্যতামূলক।
যাতে কোনও দুর্ঘটনা বা অন্য কোনও সমস্যা হলে তা গোচরে আসে, এতে করে পরবর্তীতে তেমন কিছু এড়ানোর শিক্ষা পাওয়া যায়।
কমলা, কালো নয়: ব্ল্যাক বক্সের রং কিন্তু কালো নয়। উজ্জ্বল কমলা রং এর। যাতে সহজেই খুঁজে বার করা যায় দুর্ঘটনাস্থল থেকে। এই ব্যাপারটা কিন্তু স্পষ্ট নয়, কী ভাবে এর নাম ব্ল্যাকবক্স হল।
কিন্তু এই রেকর্ডার যেন হারানিধি।
এর মাধ্যমেই বহু বিমান দুর্ঘটনার জট খুলেছে।
আর নানা রোমহর্ষক কাহিনি এসেছে আলোয়।
ব্ল্যাকবক্স ১৯৫০ সালের শুরু থেকে ব্যবহার করা শুরু হয়।
এবং তদন্তকারীদের উড়ান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের ব্যর্থতাই এই ব্ল্যাকবক্সের জন্ম দিয়েছে।
এক অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী, নাম ডেভিড ওয়ারেন, ব্ল্যাকবক্সের আবিষ্কার করেন বলে জানা যায়।
