চার বছরের বিরতির পর অ্যাকশনধর্মী “পাঠান” সিনেমার মাধ্যমে ২০২৩ সালের শুরুতেই বড় পর্দায় ফিরেছেন শাহরুখ খান। ভারতীয়দের মতো বাংলাদেশি সিনেমাপ্রেমীরাও বলিউড বাদশাহর প্রত্যাবর্তন নিয়ে উন্মুখ হয়ে ছিলেন।
সাফটা চুক্তির আওতায় সম্প্রতি বলিউডের “পাঠান” দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন পরিবেশক ও প্রযোজনা সংস্থা “অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট”। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে “পাঠান” সিনেমা মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে স্পাই থ্রিলার ঘরানার সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে এ বছরের বহুল আলোচিত “পাঠান” সিনেমা। গত রবিবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
তবে, হিন্দি সিনেমা আমদানির বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি সংবাদকর্মীদের বলেন, “আমরাই একমাত্র জাতি, ভাষার জন্য গুলি খেয়ে ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও এই নজির নেই। এ জন্য মাথা উঁচু করে আমরা কথা বলি। আমার দেশে উর্দু, হিন্দি ছবি চলবে কেন? আমাদের ওই সব কালচারের প্রয়োজন নেই। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ দেশে ‘পাঠান’ চালাতে দেবেন না। বঙ্গবন্ধুকন্যা এই উর্দু, হিন্দি ছবি এ দেশে আসতে দেবেন না।”
উর্দু, হিন্দি ছবি এ দেশে চলা নিয়ে অতীতের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে ঝন্টু বলেন, “অনেক দিন আগে এ দেশে যখন উর্দু–হিন্দি ছবি চলছিল, তখন আমরা চলচ্চিত্রের অনেকেই বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, এ দেশে উর্দু–হিন্দি ছবি চলুক, আমরা চাই না। বঙ্গবন্ধু তখন বলেছিলেন, ‘তাহলে চলবে না’।”
সিনেমা হলের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে গণমাধ্যমের কাছে এই নির্মাতা আরও বলেন, “সিনেমার অভাবে অনেক সিনেমা হলের মালিকেরা হল ভেঙে ফেলেছেন। তাদের ব্যবসা হচ্ছে না। কারণ, একটি হলে মাসে অনেক খরচ। কর্মচারীদের বেতন, ট্যাক্সসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে এক-দেড় লাখ টাকা থাকে হলমালিকদের। কিন্তু হল ভেঙে যদি মার্কেট হয়, তাহলে কয়েকশ দোকান হবে সেখানে। আয়ও আসবে বেশি।”
এ সময় এক সংবাদকর্মী দেলোয়ার জাহান ঝন্টুকে প্রশ্ন করেন, “তাহলে কি আপনারা সিনেমা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন?”
প্রশ্ন শুনেই খেপে যান ঝন্টু। উত্তেজিত হয়ে ওই সংবাদকর্মীকে তিনি বলেন, “তুমি তো আক্রমণাত্মক। তুমি অ্যাটাক করার জন্য প্রশ্ন করো। তুমি আর প্রশ্নই করবে না। এসব কথা বলো কেন তুমি? কেন ব্যর্থ হবো? ব্যর্থতার কী বোঝো তুমি?”
এরপর ওই সংবাদকর্মী তাকে জানান, তথ্যমন্ত্রী তো হিন্দি ছবির ব্যাপারে মত দিয়েছেন। এ কথা শুনে তিনি বলেন, “তথ্যমন্ত্রী যদি অনুমতি দেন, আমরা প্রতিবাদ করব। আমাদের কথা তারা শুনবেন। না শুনলে বাঙালিরা মেনে নেবে না। এর বিরুদ্ধে কথা বলবে।”
“পাঠান” ছবি নিয়ে যখন এফডিসিতে ১৯ সংগঠনের মিটিং হয়, তখনকার কথা উল্লেখ করে এই নির্মাতা বলেন, “একদিন ১৯ সংগঠনের মিটিং হচ্ছিল। আমাকে ডাকা হলো, গেলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, কীসের মিটিং? তারা বললেন, ‘পাঠান এখানে আসুক আমরা চাচ্ছি’। এ কথা শুনে বের হয়ে আসলাম। কারণ, আমি তর্ক এড়াতে চেয়েছি। আমি জানি, ওখানে আমি বেশি সাপোর্ট পাব না।”
এই পরিচালকের মত, “যারা এসব নিয়ে কাজ করছেন, তাদের ধারণা ভুল। তারা মনে করছেন ‘পাঠান’ ছবিতে দর্শক আসবেন। এতে করে আমাদের সিনেমাতেও একসময় দর্শক বাড়বে। সিনেমা বাড়বে আমাদের। আমি বলি, নো। তাদের ধারণা ভুল। কারণ, ‘পাঠান’ দেখার পর আরেকটি হিন্দি ছবি আসার অপেক্ষা করবেন দর্শক। এভাবে একটা একটা করে হিন্দি ছবি যখন আসতে থাকবে, আমার বাঙালি ভাইদের ৪০ লাখ বা ৫০ লাখ বা ৬০ লাখ টাকার সিনেমা আর চলবে না। দুই কোটি টাকার হিন্দি ছবির কাছে আমাদের এই ছবি দেখতে দর্শক হলে যাবেন না।”
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু আরও বলেন, “বড় বাজেটের হিন্দি ছবি সাজানো–গোছানো। দর্শক ওটাই দেখতে চাইবেন। আমাদের ছবি তলে পড়ে যাবে। এর আগেও একবার তলে পড়ে গিয়েছিল। আমি মনে কবি, যারা হিন্দির পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সিদ্ধান্ত ঠিক হতে পারে, কিন্তু ধারণা ভুল।”
এই নির্মাতার ভাষ্য, “হিন্দির মতো আমাদের পরিচালকদের হাতে বাজেট ধরিয়ে দেন, দেখবেন মুম্বাইয়ের চাইতেও ভালো ছবি তৈরি করতে পারবে আমাদের পরিচালকেরা।”