ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দিচ্ছে ইউরোপ। ইতোমধ্যে যুদ্ধবিমান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পোল্যান্ড। এবার ঘোষণা এলো স্লোভাকিয়া থেকে। কিয়েভকে বেশ কয়েকটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর কাছে যুদ্ধবিমান সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে আসছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অত্যাধুনিক ট্যাংক ও যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ এলেও যুদ্ধবিমানের বিষয়টি বরাবরই এড়িয়ে এসেছে পশ্চিমা দেশগুলো।
তবে প্রথম দেশ হিসেবে ইউক্রেনকে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করার পরিকল্পনা জানায় পোল্যান্ড। গত বৃহস্পতিবার সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা জানান, বাকি ফাইটারগুলো মেরামতের পর সরবরাহ করা হবে। সংখ্যা বর্ণনা করতে তিনি যে পোলিশ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন তার অর্থ ১১-১৯টির মধ্যে হতে পারে।
অন্য দেশ পোল্যান্ডের পদক্ষেপ অনুসরণ করবে কিনা, এ বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। তবে স্লোভাকিয়া বলেছে, নিজেদের অব্যবহৃত মিগগুলো ইউক্রেনে পাঠাবে।
পোল্যান্ডই প্রথম ন্যাটো দেশ যারা ইউক্রেনকে জার্মান-তৈরি লেপার্ড টু ট্যাঙ্ক সরবরাহ করেছিল।
অনেকদিন ধরে মিত্রদের কাছ থেকে ট্যাঙ্ক ও যুদ্ধবিমান চেয়ে আসছিল ইউক্রেন। এর মধ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ একাধিক দেশ ট্যাঙ্কের আশ্বাস দিলেও আকাশযান নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
পোল্যান্ড ও স্লোভাকিয়া আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, বৃহত্তর একটি আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে ফাইটার জেটগুলো হস্তান্তর করতে প্রস্তুত তারা।
তবে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস সাংবাদিকদের জানান, এখন পর্যন্ত সবাই একমত হয়েছে যে যুদ্ধবিমান পাঠানোর সময় নয়। তাকে বিষয়টি পোল্যান্ড থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
হোয়াইট হাউজ পোল্যান্ডের পদক্ষেপকে একটি সার্বভৌম সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করে প্রশংসা করেছে। তবে পদ োক্ষেপটি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলবে না, এর আগে তিনি মার্কিন এফ-১৬ সরবরাহ করার আহ্বানে সাড়া দেননি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার রুশ আক্রমণের আগে ইউক্রেনে কয়েক ডজন মিগ-২৯ ছিল, যা ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। তবে এক বছরেরও বেশি সময় যুদ্ধের পরেও কতগুলো ব্যবহারযোগ্য রয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে ইউক্রেনকে যুদ্ধের শুরু থেকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে আসছে পোল্যান্ড। অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি ইউক্রেনীয়কে গ্রহণ করেছে তারা। পোল্যান্ডে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।
