ঈদে গাজীপুর থেকে উত্তরবঙ্গে চলবে স্পেশাল ট্রেন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গাজীপুর থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

পোশাক শ্রমিকদের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গাজীপুর থেকে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের সহজ ও সুলভে বাড়ি পৌঁছতে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত পাঁচদিন ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন চলাচল করবে।

গতকাল বুধবার জয়দেবপুর রেল স্টেশনে এক সাংবাদ সম্মেলনে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সফিকুর রহমান এ তথ্য জানান।

পোশাক শ্রমিকদের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম। ট্রেনটি দিয়ে একসঙ্গে ৬৮০ জন যাত্রী যেতে পারবেন। ট্রেনটি কিসমত, ঠাকুরগাঁও রোড, দিনাজপুর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, জয়পুর হাট এবং সান্তাহার স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে।

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, ‘আসন্ন ঈদ উল ফিতরের আগে ১৮ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ঈদের পর ২৪ ও ২৫ এপ্রিল ঈদ স্পেশাল (বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম) ট্রেন জয়দেবপুর-পঞ্চগড় রেলপথে চলাচল করবে। ট্রেনটি প্রতিদিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জয়দেবপুর জংশন ছেড়ে যাবে এবং পরের দিন ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশনে পৌঁছাবে। ফেরার পথে পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশন থেকে সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে জয়দেবপর জংশনে পৌঁছাবে।’

তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ঢাকা থেকেও উত্তরবঙ্গগামী আরও একটি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। এ ছাড়া অন্যান্য দিনের মতো অন্য সব ট্রেন সময়সূচি মেনে চলবে। যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।’

রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক বলেন, ‘যাত্রীর সেবার মান বৃদ্ধি ও টিকিট কাটার হয়রানি লাঘবে ঈদের আগে ৭ এপ্রিল থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে এবং টিকিটগুলো শতভাগ অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রয় করা হবে। একজন যাত্রী তার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। যে ব্যক্তি জাতীয়পত্র ব্যবহার করে টিকিট ক্রয় করবেন তাকে অবশ্যই ট্রেনে থাকতে হবে। টিকিটগুলো প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ক্রয় করা যাবে। এ জন্য অবশ্যই আগে থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম ১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ যাত্রী অনলাইনে ঈদের টিকিটের জন্য রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। যাত্রার দিনে ২৫ শতাংশ যাত্রী টিকিট কেটে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যেতে পারবেন।’

সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা কবীর উদ্দীন, বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট শহীদ উল্লাহ, বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা আমিনুল হক ও ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শাহজাহান পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.