ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল শুরু আজ

কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে। ৭৮০ জন যাত্রী নিয়ে শুক্রবার (০১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে “কক্সবাজার এক্সপ্রেস” কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

এর আগে গত ১১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার দুপুর থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা-কক্সাবাজার ট্রেন চলাচল। গত ২৩ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে কাউন্টারের পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি করা হয় ট্রেনের টিকেট। ইতোমধ্যে সবগুলো টিকেট বিক্রি হয়েছে। ট্রেনটি চট্টগ্রামে ২০ মিনিটের যাত্রাবিরতি দেবে; আর কোনো স্টেশনে দাঁড়াবে না ট্রেনটি। কক্সবাজার থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগবে ৮ ঘণ্টা ১০ মিনিট।

রেলের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) তারেক মোহাম্মদ ইমরান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ট্রেনটি কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে প্রস্তুত আছে। শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়বে। ইতোমধ্যে ট্রেন চালানোর জন্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন থেকে ছাড়বে ট্রেনটি। চট্টগ্রামে পৌঁছাবে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে। ২০ মিনিট যাত্রাবিরতি দিয়ে ছাড়বে বিকেল ৪টায়। রাত ৯টা ১০ মিনিটে পৌঁছাবে ঢাকায়। একইভাবে ঢাকা থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে। সেখানে ২০ মিনিট যাত্রাবিরতি দিয়ে রাত ৪টায় রওনা দিয়ে কক্সবাজারে পৌঁছাবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে। তবে ঢাকা থেকে সোমবার এবং কক্সবাজার থেকে মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে ট্রেনটির। এই দুই দিন একমুখী গন্তব্যে চলাচল করতে পারবেন যাত্রীরা।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৩৪৬ কিলোমিটার। কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ভ্যাটসহ ৬৯৫ টাকা, এসি চেয়ারের ভাড়া ১,৩২৫ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ১,৫৯০ টাকা এবং এসি বার্থের (ঘুমিয়ে যাওয়ার আসন) ভাড়া ২,৩৮০ টাকা।

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও সাত ট্রেন

প্রথম ধাপে একটি ট্রেন আসা-যাওয়া করলেও আগামী বছরের শুরুতে এই বহরে সাতটি ট্রেন যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “আপাতত ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচল করবে কক্সবাজার এক্সপ্রেস। এই রুটে আন্তঃনগর ও কমিউটার মিলে আরও সাতটি ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে দুটি, ঢাকা থেকে আরও একটি, রাজশাহী থেকে একটি, সিলেট থেকে একটি, চাঁদপুর থেকে একটি এবং চট্টগ্রাম থেকে একাধিক কমিউটার ট্রেন চালুর কথা ভাবছি আমরা। আগামী বছরের শুরুতে চালুর পরিকল্পনা আছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জনবল নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বেশি ট্রেন চালানো যাবে না।”

১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার এবং রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিলোমিটার। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের প্রায় সাত বছর পর ২০১৮ সালে ডুয়েল গেজ ও সিঙ্গেল ট্র্যাক রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১,৮৫২ কোটি টাকা। পরে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮,০৩৪ কোটি টাকায়। এতে অর্থায়ন করেছে এশিয়ান ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার। এটি সরকারের অগ্রাধিকার (ফাস্ট ট্র্যাক) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.