ভ্যাট না নেওয়ায় বিমানে বছরে ক্ষতি শত কোটি টাকা

biman-logoবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লাভের মুখ দেখছে বলে দাবি করা হলেও এই প্রতিষ্ঠানে এখনো দেড় হাজারেরও বেশি অডিট আপত্তি জমা রয়েছে। প্রায় চার হাজার কোটি টাকার এই অডিট আপত্তির প্রদত্ত বিল ও কমিশনের ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করায় প্রতিষ্ঠানের শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলোচনা শেষে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি কর্নেল (অব.) শওকত আলী জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে নিরীক্ষা অধিদপ্তরকে সহযোগিতা দিয়ে অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষতে অডিট নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি যেন আর সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ের অডিট রিপোর্টের বরাত দিয়ে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট অডিট আপত্তির সংখ্যা সাত হাজার ৪৩৮টি। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৭৮৮টি অডিট আপত্তি ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। আর এক হাজার ৬৫০টি আপত্তি অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কার্যালয়ে ৬৪৩টি, অভ্যন্তরীণ স্টেশনে ৪০৬টি এবং দূতাবাস অডিট অধিদপ্তরের আওতাধীন বৈদেশিক স্টেশনগুলোতে ৬০১টি অডিট আপত্তি রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, তিন হাজার ৭৮৬ কোটি সাত লাখ টাকার এসব অডিট আপত্তির মধ্যে ২০১০-১১ অর্থবছরে ট্রাভেল ফ্যাসিলিটেটর কম্পানিকে প্রদত্ত ফি, উড়োজাহাজ লিজদাতার বিল এবং ট্রাভেল এজেন্সিকে প্রদত্ত কমিশনের ওপর ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করায় ১০৬ কোটি ৮০ লাখ ৮২ হাজার ২২০ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে এই অনিয়ম ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত এসব অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়নি।
প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস) কম্পানি মেসার্স গ্যালিলিও/ট্রাভেলপোর্টকে টিকিট বিক্রি, বুকিং ও বুকিং ফির বিল যাচাই-বাছাই এবং প্রমাণ ছাড়াই বিল পরিশোধ করায় ৬৯ কোটি ৭৪ লাখ ১৮ হাজার ২৫ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিমানের নিজস্ব নেটওয়ার্ক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অন্য জিডিএস সফটওয়্যার প্রভাইডার কম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ফি প্রদান করায় ক্ষতি হয়েছে ৩৪ কোটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬৫ টাকা। আর ৯ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, সরকারি কোটা নীতিমালা অনুসরণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই ২৫৪ জন কর্মচারী নিযোগ ও তাদের বেতন-ভাতা দেওয়ায়। এ ছাড়া কর্গো ভাড়ার ক্ষেত্রে ডলারের পরিবর্তে অনুমোদিত রেটের কমে ডলার টাকায় রূপান্তর করে গ্রহণ করায় পাঁচ কোটি ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩২৫ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সূত্রঃকালের কণ্ঠ

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.