সিলেট-লন্ডন রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বাংলাদেশ বিমান

করোনা সংকট কেটে গেলেই চালু হবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট। এরই মধ্যে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে শক্তিশালী করাসহ সব প্রস্তুতি শেষের পথে, জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সব সুবিধা নিশ্চিতে ২ হাজার ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল। এতে সেবার মানই শুধু বাড়বে না, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চালু হবে, প্রত্যাশা সিভিল এভিয়েশনের।

নামে আন্তর্জাতিক হলেও আন্তর্জাতিক রুটে কোন ফ্লাইট যায়না সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর থেকে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, আবুধাবি, জেদ্দা, দোহাসহ বাংলাদেশ বিমানের লন্ডন থেকে আসা ফ্লাইট অবতরণ করে এই বিমানবন্দরে।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইটের। কিন্তু ওসমানী বিমানবন্দরে রিফুয়েলিং সুবিধা না থাকা এবং রানওয়ে দুরপাল্লার বড় ফ্লাইট চালানোর মতো শক্তিশালী না হওয়ায় পূরণ হয়নি সেই স্বপ্ন। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এরই মধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কথা ছিল এপ্রিলের শেষে চালু হবে সিলেট -লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট। কিন্তু বাদ সেধেছে করোনাভাইরাস।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ম্যানেজার মো. হাফিজ আহমেদ বলেন, আমাদের রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যস এবং এক্সপোর্ট কার্গোর কাঠামো দাঁড় করানো সহ সব কিছুই একটা নির্ধারিত টার্গেট অনুযায়ী এগিয়েছিল। আশা করছি, করোনা পরিস্থিতির পরে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে ফ্লাইট চালু করতে পারবো।

ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি ওসমানী বিমানবন্দর। সেবার মান বাড়াতে পৃথক আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণ করতে যাচ্ছে সিভিল এভিয়েশন। এতে সিলেট থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে, প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের।

সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান মফিদুল রহমান বলেন, এই নতুন টার্মিনালের সঙ্গে থাকছে এক্সপ্লোসিভ ডিক্টেশন সিস্টেম ও ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম, ব্যাগের স্ক্যানিং মেশিন, লিফট ৯টি, এসকেলেটর ৬টি, ইলেকট্রিক্যাল সাবস্টেশন। এছাড়াও আরো অনেক সুবিধা রয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল চীনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে সিভিল এভিয়েশন। নতুন টার্মিনাল নির্মিত হলে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বছরে ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দিতে পারবে। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরেই কাজ শুরুর প্রত্যাশা সিভিল এভিয়েশনের।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.