উড়োজাহাজের দরজার যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্ট (জিএসই) শাখার ভারী যন্ত্র পুশকার্ডের ধাক্কায় বিমানের মুল দরজাটি ভেঙ্গে যাওয়ায় শনিবার বিমানের চট্টগ্রাম মাসকট ফ্লাইট বিপর্যয়ের কবলে পড়ে। প্রায় চার ঘন্টা যাত্রীরা বিমান বন্দরে আটকা পড়েন। পরবর্তীতে ঢাকার শাহজালাল আন্তজাতিক বিমান বন্দর থেকে অপর একটি এয়ারক্রাফট গিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের নিয়ে মাসকট যায়। অভিযোগ এই ঘটনার সঙ্গে বিমানের ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭-২০০ এর পাইলট ক্যাপ্টেন ইসমত, কো পাইলট ফারিয়াল ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং বিভাগের কর্মীদের দায়িত্ব অবহেলা, অজ্ঞতা ও খাম-খেয়ালীপনাকে দায়ি করা হয়েছে। জানাগেছে, যে কোন উড়োজাহাজ পার্কিং থাকা অবস্থায় সেটিকে টেকঅফ করার আগে ধাক্কা দেয়ার জন্য এই পুশকার্ড মেশিন ব্যবহার করা হয়।
বিমানের ফ্লাইট অপারেশন বিভাগ সুত্রে জানাগেছে, এই ঘটনায় ওই ফ্লাইটের পাইলট ক্যাপ্টেন ইসমত, ফাস্ট অফিসার ফারিয়াল, গ্রাউন্ড সার্ভিস শাখার টেকনিশায়ান রউফ এবং অপারেটর সনু মিয়াকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটি। প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার জন্য মুল দায়ি করা হয়েছে, এয়ারক্রাফটের মুল পাইলটকে। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, যে কোন ফ্লাইটে পাইলটের নির্দেশনা ছাড়াই কোন ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম হয় না।
বিমানের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল এনামুল বারী বলেন, বিমানের ব্ল্যাক বক্স ও এফডিএম বক্সে ওই ফ্লাইটের সব তথ্য রেকর্ড করা আছে। তদন্ত সংস্থা এই দুটি বক্সের তথ্য উদঘাটন করলেই সব তথ্য জানা যাবে ওই দিন কি ঘটেছিল।
এদিকে এই ঘটনায় উড়োজাহাজটির কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে বিমানের প্রকৌশল শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, ৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হতে পারে।
জানাগেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওমানের রাজধানী মাস্কাট যাচ্ছিল বোয়িং ৭৭৭-২০০ ফ্লাইটটি। ফ্লাইটটি উড্ডয়নের আগ মুহুর্তে পাইলট কেবিন ক্রুদের সব দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। নিয়ম অণুযায়ী পাইলটের এই নির্দেশনা পেয়ে ফ্লাইটের চীফ পার্সার উড়োজাহাজ তদন্ত করে ইন্টার কমে পাইলটকে জানাবেন সব দরজা বন্ধ আছে। এরপর পাইলট তার সামনে থাকা মনিটরেও দরজা বন্ধ আছে কিনা দেখবে। এট নিশ্চিত হওয়ার পরেই কেবল পাইলট গ্রাউন্ড সার্ভিস বিভাগকে উড়োজাহাজ ধাক্কা ও পার্কিং বেল্ট খোলার জন্য নির্দেশ দিবেন। জানাগেছে ওই দিন চীফ পার্সার দরজা বন্ধ থাকা সংক্রান্ত পাইলটকে কোন এনাউন্সমেন্ট দেননি। তারপরও পাইলট গ্রাউন্ড সার্ভিস বিভাগকে পুসকার্ড দিয়ে উড়োজাহাজকে ধাক্কা দেয়ার নির্দেশ দেয়। আর নির্দেশনা পেয়েই টেকনেশিয়ান পুসকার্ড মেশিন দিয়ে এয়ারক্রাফটকে ধাক্কা দিতে গেলেওই তা সরাসরি দরজায় লাগে। মুহুর্তে দরজা ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন সাবেক পাইলট জানান, কোন অবস্থাতে ক্রুদের নির্দেশনা ছাড়া পাইলট পুস কার্ড দিয়ে উড়োজাহাজকে ধাক্কা দিতে বলতে পারেন না। এর আগেও বিমানের পাইলটদের অদক্ষতা, অজ্ঞতার কারণে ব্র্যান্ড নিউ এয়ার ক্রাফট বোয়িং ৭৭৭-৩০০ মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে টেকঅফ করেছিল। এতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান ওই ফ্লাইটের পৌনে চারশ ‘যাত্রী। একই সঙ্গে রক্ষা পায় দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদ নতুন উড়োজাহাজ।
এই ঘটনার সঙ্গে বিমানের সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন বেলাল ও ক্যাপ্টেন রেজোয়ান সরাসরি জড়িত থাকলেও তদন্ত সংস্থা তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমান করতে পারেনি। যদিও এধরনের একটি ঘটনায় কাতার এয়ারলাইন্সর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২ পাইলট ও ৮ কেবিন ক্রুর্কে তাৎক্ষনিক চাকরীচ্যুত করা হয়েছিল। জানাগেছে বিমানের বর্তমান পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন ক্যাপ্টেন জামিল আহমেদ ওই অভিযোগের তদন্ত করেন।
অভিযোগ আছে মুলত ক্যাপ্টন জামিল এই তদন্ত রিপোর্ট দিয়েই পুরস্কার হিসাবে ডিএফও‘র এই পদটি ভাগিয়ে দেন। তবে বিমানের তদন্ত টিম এই অভিযোগ আমলে না নিলেও সিভিল এভিয়েশন কতৃপক্ষ এটি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। বেবিচকের পরিচালক ফ্লাইট সেফটি উইং কমান্ডার চেীধুরী জিয়া উল কবীর জানান, তারা শুনেছেন বিমান কতৃপক্ষ ইতোমধ্যে এই ঘটনার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। সিভিল এভিয়েশন এই তদন্ত প্রতিবেদনটি দেয়ার জন্য বিমান কতৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। তিনি বলেণ, তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই তারা এনিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।