বহরে থাকা দুটি এয়ারবাস এ-৩১০-৩০০ উড়োজাহাজ বিক্রি করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। উড়োজাহাজ দুটি উড্ডয়ন উপযোগী হলেও জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, উড়োজাহাজ দুটির উড্ডয়ন মেয়াদ আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাবে। এর পরই এগুলো উড্ডয়ন উপযোগী রাখতে হলে ডি-চেক (বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ) করাতে হবে। এতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হবে। তাই ডি-চেকের আগেই ব্যয়বহুল এ উড়োজাহাজ দুটি বিদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সব এয়ারলাইনসই বর্তমানে জ্বালানিসাশ্রয়ী উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিমানও নতুন প্রজন্মের জ্বালানিসাশ্রয়ী উড়োজাহাজ যুক্ত করেছে বহরে। এ কারণে পুরনো ও ব্যয়বহুল এয়ারবাস দুটি বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, দুটি এয়ারবাস এ-৩১০-৩০০ উড়োজাহাজ বিক্রি করতে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিমানের করপোরেট প্ল্যানিং শাখার মহাব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান ফারুকী স্বাক্ষরিত দরপত্রটি ২৪ মে আহ্বান করা হয়। ওই দরপত্রে বলা হয়েছে, এয়ারবাস এ-৩১০-৩০০ উড়োজাহাজ দুটি ইঞ্জিন, প্রপেলার, এপিইউ এবং ল্যান্ডিং গিয়ারসহ বিক্রি করা হবে। দুটি উড়োজাহাজই উড্ডয়ন সক্ষম এবং ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী। উড়োজাহাজ দুটি আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ হস্তান্তর করবে বিমান, যা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংগ্রহ করতে হবে। আগ্রহী ক্রেতাদের আগামী ২৩ জুনের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এয়ারবাস-৩১০ উড়োজাহাজে একের পর এক ত্রুটি দেখা দেয়ায় এগুলো বিমানবহরের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে সরকারকে। এর আগে ২০১২ সালে এয়ারবাস-৩১০-এর ডি-চেক করাতে গিয়ে বিমানকে ৩১০ কোটি টাকা অতিরিক্ত গচ্চা দিতে হয়। তারও আগে দুবাই বিমানবন্দরে একটি এয়ারবাসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি আর দেশে আনা সম্ভব হয়নি। সেখানেই এয়ারবাসটি স্ক্র্যাপ করে বিক্রি করে দিতে হয়। এছাড়া প্রায়ই উড়োজাহাজে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে জ্বালানি তেল ফেলে দিয়ে সেটি জরুরি অবতরণ করাতে হয়। এতেও বড় অঙ্কের অর্থ গচ্চা দিতে হয় বিমানকে।
উল্লেখ্য, বিমানের বহরে এয়ারবাস-৩১০ উড়োজাহাজ যুক্ত হয় ১৯৯০ সালে। সে সময় সম্পূর্ণ নতুন অবস্থায় দুটি এয়ারবাস-৩১০ কেনা হয়। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজ দুবাইয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে অচল হয়ে যায়। পরে আরো একটি এয়ারবাস-৩১০ উড়োজাহাজ পাঁচ বছরের চুক্তিতে লিজ নেয়া হয়, পরবর্তীতে যা কিনে নেয় বিমান।
উড়োজাহাজটি উড্ডয়ন অনুপযোগী হয়ে প্রায় দুই মাস সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে পড়েছিল। এছাড়া ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অন্য একটি এয়ারবাস-৩১০ উড়োজাহাজের বডিতে ফাটল ধরে। ওই সময় উড়োজাহাজটিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছিলেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কয়েক বছর ধরে বিমানের ভেতর থেকেই ব্যয়বহুল এসব উড়োজাহাজ বহর থেকে বাদ দেয়ার কথা ওঠে। এরই অংশ হিসেবে প্রথমে ডিসি-১০ বাদ দেয়া হয়। এবার বাদ দেয়া হচ্ছে এয়ারবাস-৩১০।
প্রসঙ্গত, লোকসানে থাকা বিমানকে মুনাফার ধারায় ফেরাতে ২০১১-১৪ সাল পর্যন্ত আনা হয় চারটি বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ। এগুলোর নামকরণ হয় যথাক্রমে— পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ ও রাঙা প্রভাত। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ হিসেবে দুটি ৭৭৭-২০০ ইআর, দুটি ৭৩৭-৮০০ ও দুটি ড্যাশ-৮কিউ৪০০ উড়োজাহাজ দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে বিমানের বহরে সংযোজন হয়েছে। গত নভেম্বরে আনা হয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের নতুন আরো একটি উড়োজাহাজ; যার নামকরণ করা হয়েছে ‘মেঘদূত’। আর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিমানের বহরে যোগ হয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’। এছাড়া ২০১৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে চারটি বোয়িং ৭৮৭ ‘ড্রিমলাইনার’ বিমানের বহরে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও খবর