যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উপহার পাওয়া ভয়ংকর সব সমরাস্ত্র এখন তালেবানের হাতে
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উপহার পাওয়া আফগান সরকারি বাহিনীর সমরাস্ত্রেরও দখল নিয়েছে তালেবানরা। সেসব সমরাস্ত্র আফগান সেনাবাহিনীকে উপহার হিসেবে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত এক মাস আগে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন সাতটি হেলিকপ্টারের ছবি দিয়েছিল সোশাল মিডিয়ায়।কিন্তু এর কয়েক সপ্তাহ পরে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। ফলে সেইসব হেলিকপ্টারও এখন তালেবানের হাতে।
তবে কী পরিমাণ সমর সরঞ্জাম তালেবানের হাতে পড়েছে, তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।
তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এর মধ্যে রয়েছে ২ হাজারের মতো সাঁজোয়া যান, যার মধ্যে হামভি যানও রয়েছে; রয়েছে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ ৪০টি উড়োজাহাজ, স্ক্যানইগল মিলিটারি ড্রোন।
কাবুল সরকারের পতন ঘটার পর এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সাঁজোয়া যানের বহরের সামনে তালেবান সদস্যরা, তারা পরীক্ষা করে দেখছে নতুন নতুন নানা সমরাস্ত্র। এর সঙ্গে ছিল ড্রোনও।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য মাইকেল ম্যাককউল বলেছেন, আমরা এরই মধ্যে তালেবান যোদ্ধাদের আমেরিকান অস্ত্র হাতে দেখেছি, যা তারা ছিনিয়ে নিয়েছে আফগান বাহিনীর কাছ থেকে। এটা আমাদের এবং আমাদের মিত্রদের জন্য একটা বড় হুমকি।
এক পরিসখ্যানে দেখা যায়, ২০০২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীকে ২৮০০ কোটি টাকার সমরাস্ত্র দিয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে বন্দুক, রকেট, নাইট-ভিশন গগলস, গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর জন্য ড্রোন।
তবে উপহারের তালিকায় সবকিছুর উপরে ছিল ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার। তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগান সেনাদের এটা বেশ এগিয়ে রাখত।
২০০৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আফগান বাহিনীকে ২০৮টি বিমান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র- এই তথ্য জানাচ্ছে ইউএস গভার্নমেন্ট অ্যাকাউন্টিবিলিটি অফিস।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বলেন, ৪০-৫০টি বিমান নিয়ে আফগান বৈমানিকরা পালিয়ে উজবেকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছে। কিছু বিমান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আগেই এসেছিল, সেগুলো এখন থেকে যাবে।