বাংলাদেশি পর্তুগিজ সোসাইটি ইউকের বার্ষিক আনন্দভ্রমণ

বাংলাদেশি পর্তুগিজ সোসাইটি ইউকের বার্ষিক আনন্দভ্রমণ।ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত বোর্নমাউথে অনুষ্ঠিত হয়েছে।দীর্ঘ দুই বছরের করোনা তাণ্ডবের পর ভ্রমণটিতে মানুষের অংশগ্রহণের জোয়ার দেখে স্থানীয় ব্রিটিশসহ অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর মানুষেরা স্তম্ভিত হয়ে যায়। কারণ সাড়ে ৫০০ মানুষের বহর নিয়ে দশটি বাসযোগে ভ্রমণ করতে যাওয়া ইংল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলোতে সচারাচর দেখা যায় না।

এ প্রসঙ্গে ৩৫ বছর ইংল্যান্ডে বসবাসকারী সাংবাদিক ফজলুল হক বলেন, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে তিনি কাজ করছেন প্রায় ২৫ বছর। শতাধিক পিকনিকের নিউজ কভার করেছেন তিনি। কিন্তু এত বিশাল এবং সুশৃংখলভাবে ভ্রমণের নিউজ কভার করার অভিজ্ঞতা তার এটাই প্রথম। ঠিক একই রকম অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন ইংল্যান্ড বসবাসরত কমিউনিটি নেতা মোতাহের হোসেন লিটন।

এদিকে আনন্দ ভ্রমণের মিডিয়া পাটনার যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় বাংলা টিভি চ্যানেল আই অন টিভির সিইও এবং ডিরেক্টর আতাউল্লা ফারুক বলেন, বাংলাদেশি পর্তুগিজ সোসাইটি ইউকে আয়োজিত আনন্দভ্রমণটি বাংলাদেশি কমিউনিটির মুখ উজ্জ্বল করেছে, যা সত্যি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশি প্রজন্মের জন্য আশার সঞ্চার করবে। অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য তিনি, সংগঠনের নেতাদের ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতেও আই অন টিভি পর্তুগিজ বাংলাদেশি সোসাইটিসহ সকল বাংলাদেশি সংগঠনের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

১৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় ইস্ট লন্ডনের আপটন পার্ক এবং হোয়াইট চ্যাপেল থেকে একযোগে রওনা হয় ১০টি বাস। যাত্রাকালে বাসের ভেতর জম্পেশ আড্ডায় মেতে ওঠেন যাত্রীরা গান, কৌতুক, আবৃত্তিসহ নানাবিধ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে দিতে এক সময় মাঝপথে পথে যাত্রা বিরতিতে সকালের নাস্তা পরিবেশন করা হয়। দুপুর দেড়টায় গন্তব্যে পৌঁছে দশটি বাসের বিশাল বহর। বাস থেকে নেমে শুরু হয় প্রতীক্ষিত সমুদ্র স্নানের পালা। সমুদ্রে স্নানের পর সৈকতের পাশে অস্থায়ী স্টেজ নির্মাণ করে পরিবেশন করা হয় দুপুরের খাওয়া। এরপর বাচ্চাদের খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে পাঁচ-দশ বছরের ছোটমনিরা, ১১ -১৮ বছরের আকর্ষণীয় দৌড় প্রতিযোগিতা ছিল। মহিলাদের বালিশ খেলা, অন্ধের হাড়িভাঙ্গাসহ বিভিন্ন ইভেন্ট সময় স্বল্পতার কারণে শেষ করা যায়নি। তবে প্রতিযোগিতার উপহারগুলো লটারির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। রাব্বির অ্যান্ড কোম্পানি একাউন্টেন্ট লি., এয়ারট্রিপ ট্রাভেলস লি., ক্যাপে মুন, ইকরা প্রপার্টিজের সৌজন্যে প্রতিটি যাত্রী পরিবারকে বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়।

আনন্দভ্রমণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট রাফেল ড্র আয়োজন করা হয় টিএন্ডটি (TNT) কনসালটিং লি. ইউকের সৌজন্যে, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ইপতি আহমেদ এবং সহযোগী মি. চার্লি উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে ল্যাপটপ, স্মার্ট টিভি, স্মার্ট ফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করেন।
সংগঠনের উপদেষ্টা হুমায়ন কবির জাহাঙ্গীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত খেলাধুলা, পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন “বাংলাদেশি পর্তুগিজ সোসাইটি ইউকে”র সভাপতি নুর মোহাম্মদ কচি।

সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন, উপদেষ্টা আবুল বাশার, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন, সহ-সভাপতি শরীফ আহমেদ, সরদার আহমেদ রায়হান, মঞ্জু সরকার, সহসাধারণ সম্পাদক নজরুল সুমন, হাবিব উজ্জল, সংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নাসির আহমেদ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতা হাবিবুল বাশার তানভীর, কামাল পাঠান, তৌকির আহমেদ, আব্দুর রহিম, শফিকুর রহমান সফু, হাফেজ সুমন, ইমতিয়াজ বুলবুল, টাইগার মাসুদ, ফারুক আহমেদ, রাহি মুসাফির, বিশ্বজিৎ মজুমদার, সাংবাদিক মাসুদ বিন সাইদসহ আরও অনেকে।

বিকাল সোয়া ৬টায় বোর্নমাউথ থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৯টায় লন্ডন পৌঁছে যাত্রা সমাপ্তি ঘোষণা করেন সংগঠনের সভাপতি নুর মোহাম্মদ কচি। তিনি সুশৃংখলভাবে ভ্রমণটি আয়োজনে সহযোগিতা করায় সকলকে ধন্যবাদ জানান।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.