পাসপোর্ট কর্মকর্তা হয়রানি করায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন

নাটোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আলী আশরাফ নাটোরে এক সেবাগ্রহীতাকে হয়রানি করায় আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। আদালতের তলবে তিনি নাটোরের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোসলেম উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেলে মোছা. রওশন আরা বেগম নামের এক নারী পাসপোর্ট করার জন্য অ্যাফিডেভিট করতে আদালতে আসেন। ওই নারী আদালতকে জানান, রাজশাহী থেকে একটি পাসপোর্ট করেছিলেন।

সেখানে ভুলক্রমে জন্মস্থান রাজশাহী লেখা হয়েছিল। পরে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) উল্লিখিত জন্মস্থান নাটোর উল্লেখ করে নাটোরে নতুন পাসপোর্ট করতে দেন। কিন্তু নাটোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আলী আশরাফ তাঁকে জন্মস্থান সংশোধনের জন্য অ্যাফিডেভিট করতে বলেন। বিষয়টি শুনে আদালত বলেন, এনআইডির ঠিকানা ধরে পাসপোর্ট করতে অ্যাফিডেভিটের প্রয়োজন নেই।

এ ব্যাপারে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সার্কুলার আছে। শুনানি শেষে ওই দিন আদালত পাসপোর্ট কর্মকর্তা আলী আশরাফকে ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে আজ সকালে জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোসলেম উদ্দিনের আদালতে হাজির হন আলী আশরাফ। বেলা একটার দিকে ওই পাসপোর্ট কর্মকর্তা আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে স্বীকার করেন, তিনি সেবাগ্রহীতা মোছা. রওশন আরা বেগমকে অ্যাফিডেভিট করতে বলে ভুল করেছেন। এ জন্য তিনি আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে তিনি অধিদপ্তরের সার্কুলার ও আদালতের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন বলে আদালতকে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় আদালত তাঁকে বলেন, ‘আপনি অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা হয়ে কেন সার্কুলার অনুসরণ করবেন না? আপনি কেন সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করে চলেছেন? এর আগেও আপনাকে সতর্ক করা হয়েছে।’

আদালত তাৎক্ষণিক আদেশ না দিয়ে পরবর্তী সময় আদেশ দেবেন বলে জানান। পরে সহকারী পরিচালক আদালতের অনুমতি নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আতাউল গণি বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, আদালত এ ব্যাপারে পরে চূড়ান্ত আদেশ দেবেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.