অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লেন বেবিচক কর্মী

সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিদেশি এয়ারলাইন্সের কর্মী, সুযোগ পেলেই যাত্রীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। শুধু বিমানবন্দরের কর্মী নয়, বহিরাগত প্রতারক চক্রের নজর থাকে বিমানবন্দরের যাত্রীদের দিকে।

এতদিন কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাবে অনৈতিক অর্থ আদায় করেও অনেকেই পার পেয়ে যেতেন। যদিও বর্তমানে সুশাসন সৃষ্টি ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থাও।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশল  ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে কাজ করেন রফিকুল ইসলাম। সুযোগ পেলেই তিনি বিমানবন্দরে যাত্রীদের কাছ থেকে অনৈতিক টাকা নিতেন। তবে বিমানবন্দরে সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পড়বেন— সে চিন্তা তার মাথায় ছিল না। অবশেষে যাত্রীর অভিযোগে ধরা পড়ে চাকরি হারালেন তিনি।

জানা গেছে, সিঙ্গাপুর প্রবাসী নুরুদ্দিন মোল্লা গত ৬ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। ইমিগ্রেশন শেষ করে তিনি বেল্টে চলে যান লাগেজ সংগ্রহ করতে।  তখন সময় আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টা। বেল্টে কয়েকটি লাগেজ ঘুরছে। বেশিরভাগ যাত্রী লাগেজ নিয়ে বের হয়ে গেছেন। অল্প কয়েকজন যাত্রী বেল্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। যে কয়জন যাত্রী দাঁড়িয়ে আছেন তাদের একটা লাগেজ বেল্টে আছে অন্য লাগেজটি নেই।  অথচ লাগেজ বেল্টে নতুন কোনও লাগেজও দেওয়া হচ্ছে না। এ সময় বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা এসে তাদের কাছে জানতে চান লাগেজ পেয়েছেন কিনা। তখন যারা লাগেজ পাননি তারা তার সঙ্গে কথা বলেন।

প্রবাসী নুরুদ্দিন মোল্লা সেই কর্মকর্তাকে জানালেন তিনি লাগেজ পাননি। তখন সেই কর্মকর্তা নুরুদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে যান বেল্টের মুখের দিকে। সেখানে ১০-১৫টা লাগেজ নিচে নামানো ছিল। সেখানেই নুরুদ্দিন মোল্লা তার লাগেজটি পান। তখন বিমানবন্দরের সেই কর্মকর্তা তাকে ১০ ডলার দিতে বলেন। পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে তাকে ১০ ডলার দিয়ে বের হয়ে আসেন এই সিঙ্গাপুর প্রবাসী। বাড়িতে ফিরে প্রবাসী নুরুদ্দিন মোল্লা  এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক)  লিখিত জানান। বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর সাদিকুর রহমান চৌধুরী যাত্রীর অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্তের নির্দেশনা দেন। সেদিনের সিসি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়।

সিঙ্গাপুর প্রবাসী নুরুদ্দিন মোল্লা বলেন, বিমানবন্দরের পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো। কিন্তু লাগেজ নিতে গিয়ে হতবাক হয়ে গেলাম। বিমানবন্দরের কর্মী এভাবে প্রকাশ্যে টাকা নিচ্ছে। কেউ খুশি হয়ে বকশিশ দিলে ভিন্ন কথা, তারা চেয়ে টাকা নিচ্ছে। সে আমাকে তার পকেট থেকে ১০ ডলার বের করে দেখায়, অন্যরাও তাকে ডলার দিয়ে লাগেজ নিচ্ছে। আমি কথা না বাড়িয়ে ১০ ডলার দেই। এরপর অন্য যাত্রীদেরও একইভাবে ডেকে নিয়ে যায় ওই কর্মকর্তা। বিমানবন্দরের ভেতরে হেনস্তার ভয়ে আমি কিছু বলিনি। কিন্তু পরে কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানিয়েছি।

এর আগে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনের ট্রাফিক হেলপার মান্নান হোসেন চাকরি হারিয়েছেন যাত্রীর অভিযোগে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নানা অজুহাতে সৌদিগামী যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিকভাবে টাকা নিতেন তিনি। তিনি এতটাই  চতুর যে সরাসরি যাত্রীর হাত থেকে টাকা নিতেন না। টাকা ভাঁজ করে পাসপোর্টের ভিতরে দিতে বলতেন। এক সৌদি আরব প্রবাসী অভিযোগ দিলে বিমানবন্দরের সিসি ক্যামেরা পর্যালোচনা করে তাকে শনাক্ত করা হয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন,  বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীরা কোনও অভিযোগ দিলে সেটিও গুরুত্বসহ দেখা হয়। যাত্রীদের হয়রানি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রীর অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রফিকুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করেছে।

সূএ: বাংলা ট্রিবিউন

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.