মানুষের আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র হল তার পাসপোর্ট। এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে হলে পাসপোর্ট একান্তই প্রয়োজনীয়। কারণ এতে সেই যাত্রীর যাবতীয় সমস্ত তথ্য দেওয়া থাকে। তবে আপনি কী জানেন বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট বিভিন্ন রঙের হয়? আর প্রত্যেকটি রঙের আলাদা আলাদা তাৎপর্য রয়েছে? আগে যদিও মানুষের এসব বিষয় নিয়ে খুব একটা ধারণা ছিল না।
তবে ধীরে ধীরে ইন্টারনেট সেই পথকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আপনাকে জানিয়ে রাখা ভালো সমগ্র বিশ্বে মোট চারটি রং,যথাক্রমে লাল,সবুজ,নীল এবং কালোর কয়েক হাজার শেডের পাসপোর্ট রয়েছে। আজ আমরা সেই আলাদা আলাদা রঙের গুরুত্ব সম্পর্কেই জানবো।
লাল পাসপোর্ট: যেসব দেশে কমিউনিজম এসেছে সে সব দেশের ক্ষেত্রেই লাল রঙের পাসপোর্ট দেখা যায়। এটি আসলে বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় পাসপোর্ট। ক্রোয়েশিয়া ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় সমস্ত সদস্য দেশই একটি সাধারণ পাসপোর্ট মডেল হিসেবে লাল রঙকে বেছে নিয়েছে। ভারতের কাছেও রয়েছে লাল-মেরুন রঙের পাসপোর্ট।
এছাড়া সার্বিয়া,রোমানিয়া,রাশিয়া,চীন,স্লোভেনিয়া,পোল্যান্ড,জর্জিয়ার নাগরিকদের কাছেও রয়েছে লাল রঙের পাসপোর্ট।
শুধু তাই নয় তুরস্ক,মেসিডোনিয়া,আলবেনিয়ার মতোন দেশও গত লাল রঙের দিকেই ঝুঁকেছে।
নীল পাসপোর্ট: জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে লালের পরই আসে নীল রঙের পাসপোর্ট। নীল রং আসলে নতুন বিশ্বের প্রতীক। আর্জেন্টিনা,কোস্টারিকা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা,ভেনেজুয়েলা,প্যারাগুয়ে,উরুগুয়ের মতোন দেশে নীল রঙের পাসপোর্ট রয়েছে।
ভারতেও রয়েছে নীল রঙের পাসপোর্ট। শুধু তাই নয় ১৫ টি ক্যারিবিয়ান দেশেও এরকম পাসপোর্ট রয়েছে।
সবুজ পাসপোর্ট: বিশ্বের প্রায় সমস্ত ইসলামিক রাষ্ট্রের পাসপোর্টের রং সবুজ। আসলে তাদের নবী মহম্মদের প্রিয় রং নাকি সবুজ। তাই তারা এই রংটিকে পবিত্র হিসেবে মনে করেন। সৌদি আরব,মরক্কো,পাকিস্তানের মতোন দেশের কাছে রয়েছে সবুজ রঙের পাসপোর্ট।
কালো পাসপোর্ট: গোটা বিশ্বের মাত্র কয়েকটা দেশেই রয়েছে কালো রঙের পাসপোর্ট। যে তালিকায় রয়েছে তাজিকিস্তান প্রজাতন্ত্র,ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র,ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। অন্যদিকে বেশ কিছু আফ্রিকান দেশ যেমন- জাম্বিয়া,গ্যাবন,বুরুন্ডি, অ্যাঙ্গলো,কঙ্গো এছাড়া নিউজিল্যান্ডের জাতীয় রং কালো হওয়ায় তারাও কালো পাসপোর্ট ব্যবহার করে।