রাজপুত্রের নাম জুদাহ্ বেন-হার। দেশদ্রোহিতার মিথ্যা কলঙ্ক নিয়ে দেশছাড়া। নিজেরই ভাই ও বাল্যবন্ধু, রাজপরিবারের দত্তক রোমান সেনা কর্মকর্তা মেসালা ওই মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করেন। পরিবার আর প্রেয়সীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন বেন-হার বাধ্য হলেন ক্রীতদাসের কাজ করতে। এভাবে বহু বছর কেটে গেল সমুদ্রে। তারপর মুক্ত বেন-হার ফিরে এলেন মাতৃভূমিতে। বুকে জ্বলছে প্রতিশোধের ধিকিধিকি আগুন। কিন্তু দেখলেন, সবকিছু বদলে গেছে অনেক। দৃশ্যপট খ্রিষ্টীয় প্রথম শতকের জেরুজালেম।
বেন-হার ছবির দৃশ্যএ কাহিনি বেন-হার ছায়াছবির। মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার (১৯ আগস্ট)। লিউ ওয়ালেসের ১৮৮০ সালের মহাকাব্যিক উপন্যাস বেন হার: অ্যা টেল অব দ্য ক্রাইস্ট অবলম্বনে এটিই প্রথম চলচ্চিত্র নয়। উইলিয়াম ওয়াইলার পরিচালিত বেন-হার নামে ১৯৫৯ সালেও হলিউডের একটি ছবি দর্শকমন জয় করেছিল। সেই ছবিতে অস্কারজয়ী চার্লটন হেস্টন ও স্টিফেন বয়েডের দুঃসাহসী রথচালনার দৃশ্য এখনো মনের মধ্যে গেঁথে আছে অনেকের। এবারের ছবিটিতে সেই দৃশ্য নয় মিনিটের। আর তাতে অংশ নিয়েছে ৮০টি ঘোড়া। দুরন্ত গতির সেই রথচালনাকে আরও রোমাঞ্চকর ও জীবন্ত করে তোলার চেষ্টা করেছেন পরিচালক তাইমুর বেকমামবেতভ। আর নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জ্যাক হিউস্টন। তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন মরগান ফ্রিম্যান, টবি ক্যাবেল, গ্যাল গ্যাডট, নাজানিন বনিয়াদি, রদ্রিগো সান্তোরো প্রমুখ। ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) প্রযুক্তি ও স্পেশাল এফেক্টসের সমন্বয়ে এই ছবি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
হলিউডের সবচেয়ে মহাকাব্যিক ছবিগুলোর তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে বেন-হার। কী আছে এতে? ইহুদি রাজপুত্র বেন-হারের জীবনযুদ্ধের পাশাপাশি রোমান সাম্রাজ্যের পটভূমি, খ্রিষ্টের আবির্ভাব, পবিত্র ভূমি, কুষ্ঠরোগীদের উপত্যকা, যিশুর ক্রুশারোহণ, ঘোড়ায় টানা রথের লড়াই ইত্যাদি।
কাহিনিকার ওয়ালেস নিজেও ছিলেন একজন সেনা কর্মকর্তা। তাঁর কাজকর্ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ক্রাওফোর্ডসভিলে তৈরি হয়েছে দ্য জেনারেল লিউ ওয়ালেস স্টাডি অ্যান্ড মিউজিয়াম। সামরিক অভিজ্ঞতার আলোকেই তিনি বেন-হার-এর কাহিনি লিখেছিলেন। পাঁচ কোটি কপিরও বেশি বিক্রি হয়েছে সেই বই। এটি নিয়ে মঞ্চনাটক এবং নির্বাক যুগের চলচ্চিত্রও বানানো হয়েছে।
১১টি অস্কারজয়ী ১৯৫৯ সালের বেন-হার-এর চেয়ে এবারের ছবিটি অনেকটাই অন্যরকম, বললেন পরিচালক বেকমামবেতভ। মূল উত্স এক হলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। কারণ, পৃথিবীটা অনেক বদলেছে। প্রতিশোধের চেতনা তখনকার জন্য উপযোগী হলেও এখন আর নয়। তাই এ ছবিতে বরং ক্ষমার গুরুত্বটাকেই বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন বেকমামবেতভ।
নতুন ‘বেন-হার’ জ্যাক হিউস্টন বললেন, এই চরিত্রে অভিনয় তাঁর জীবনের অনেক বড় অর্জন। এ কাজের সুযোগ পেয়ে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।