‘দেশের এভিয়েশন সেক্টর আন্তর্জাতিক মানে বিকশিত হচ্ছে’

দেশের এভিয়েশন সেক্টর আন্তর্জাতিক মানে বিকশিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি এভিয়েশন শিল্পেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে লা মেরিডিয়ান হোটেলে কসক্যাপ-এসএ’র ৩০তম স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ সভার আয়োজন করে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দেশের বিমান যোগাযোগের পরিধি বাড়ছে। সারাদেশে বিমান পরিকাঠামোর সময়োপযোগী সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত ও জন দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিরাপদ ও সুষ্ঠু বিমান চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। আর এসব কার্যক্রমেরই লক্ষ্য হলো দেশকে একটি প্রধান এভিয়েশন হাব এবং আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তর করা।

 

২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল বৃহত্তম বিমান পরিবহন বাজার হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সুযোগ গ্রহণ করতে বাংলাদেশে এভিয়েশন শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকার বেশ কিছু নীতি প্রবর্তন করেছে এবং আইনগত সংস্কার করেছে।

 

দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের সিভিল এভিয়েশন প্রধানদের অংশগ্রহণে স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক তাও মা প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্ট ডিভিশনের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখেন এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

কসক্যাপ-এসএ’র ৩০তম স্টিয়ারিং কমিটির সভা বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত চলবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ এভিয়েশন সেফটি ও এয়ারওয়ার্দিনেস সংক্রান্ত কারিগরি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই সভা করা হয়।

 

সভায় বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অংশগ্রহণ করে। সদস্য দেশগুলো ছাড়াও ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশন, ইইউ, ট্রান্সপোর্ট-কানাডা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ফ্রান্স, বোয়িংসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.