রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে বৈঠক করেছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফু। গতকাল রবিবার মস্কোতে তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ‘সীমাহীন’ অংশীদারত্ব ঘোষণা করা চীন ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
ক্রেমলিনের প্রকাশিত বৈঠকের ফুটেজে দেখা গেছে, চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দন করছেন পুতিন। পরে তারা একটি টেবিলে বসে আলোচনা করেণ। এ সময় রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে পুতিন বলেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন অর্থনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও সামরিক খাতে ভালো।
বেইজিং গত সপ্তাহে লির মস্কো সফরের ঘোষণা দিয়েছিল। বলা হয়েছিল তিনি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কিন্তু পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের কথা সম্ভাব্য সূচিতে উল্লেখ করা হয়নি।
গত মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মস্কো সফরে পুতিনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছিলেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়ে আক্রমণের পর থেকে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শুক্রবার বলেছিলেন, ইউক্রেনে ব্যবহৃত রুশ অস্ত্রে চীন নির্মিত উপাদান ক্রমবর্ধমান সংখ্যা খুঁজে পাচ্ছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। তবে চীন বারবার রাশিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং বলেছিলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধরত কোনও পক্ষের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে না চীন। পাশাপাশি বেসামরিক ও সামরিক কাজে ব্যবহার করা যায় এমন পণ্যের রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রাশিয়াকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বেইজিং। কিন্তু প্রকাশ্যে নিজেদের নিরপেক্ষ হিসেবে দাবি করছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোতে সংঘাতের উসকানি দাতা হিসেবে দায়ী করে আসছে বেইজিং। ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য রাশিয়ার সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছে চীন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে দেশটি।
