বিমান মেকানিকের পায়ে ৪ কেজি স্বর্ণ!

captureবাংলাদেশ বিমানে কাজ করেন ২৮ বছর। অভিজ্ঞ, বৃদ্ধ আর নিরীহ প্রকৃতির। ক্লিনার বেচারাকে দেখে বোঝার উপায় নেই চাকরির বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত করেছেন স্বর্ণ চোরাচালানে।

শেষে নিরীহ এ ব্যক্তির জুতোর মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা পৌনে ৪ কেজি ওজনের ৩০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

বুধবার (০৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানকর্মী মো. লিয়াকত আলী কাছ থেকে এ স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়।

রাতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, তথ্য ছিলো স্বর্ণ আসছে। বিকেল থেকে অপেক্ষা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে ৫৮৬ ফ্লাইটের জন্য। অবতরণের পর তাই ঘিরা ফেলাও হয় চারেদিক থেকে।

এর আগেই বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেকানিক মো. লিয়াকত আলী হাজির। বিমানের ভেতরে পরিষ্কারের নামে স্বর্ণবার গোছানোয় ব্যস্ত তিনি।

বিমানে ওঠেই যাত্রীদের আশ্বস্ত করলো শুল্ক কর্মকর্তারা, আপনাদের ভয় নেই। যার যার সিটে বসে থাকেন। আমাদের কাছে তথ্য আছে, তাই তল্লাশি করা হবে। কর্মকর্তাদের দেখেই লিয়াকত আলী স্বর্ণবার জুতোর ভেতরে লুকিয়ে পলায়নের চেষ্টা করেন। এসময় বিমান কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন।

প্রশ্ন যাই হোক সোজা উত্তর,‘আমি নিরীহ। চাকরি করে খাই। স্বর্ণ কই পামু।’ সন্তুষ্ট না হতে কর্মকর্তারা তল্লাশি চালান তার শরীরে। সব শেষে তল্লাশি করা হয় তার জুতোর মধ্যে।

তখনই বের হয়ে আসে তিনটি বিশেষ আকৃতির পোটলা। যার মধ্যে রয়েছে ১১৫ গ্রাম ওজনের ৩০টি স্বর্ণবার। যার ওজন ৩.৪৫ কেজি, মূল্য ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

মইনুল খান আরও বলেন, দেখতে নিরীহ হলেও অভিজ্ঞ। হয়তো সারাজীবন এ কাজেই করেছেন তিনি। তবে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে পরিষ্কারের কাজ তদারকি করতে সেখানে গিয়েছেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর কারা জড়িত, কোথা থেকে এসেছে, কাদের দেওয়া হবে। তার দেওয়া তথ্যে ভিত্তিতে ওপর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.