গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ৫০০

ফিলিস্তিনের মধ্য গাজায় একটি হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে রোগী এবং এর ভেতরে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিসহ প্রায় ৫০০ জন নিহত হয়েছে।

নিশ্চিত করা হলে ২০০৮ সালের পর থেকে একক ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ।

আল-আহলি আরব হাসপাতালে এ হামলা দ্রুত আন্তর্জাতিক নিন্দার জন্ম দেয়।

ফিলিস্তিন শরণার্থীদের জন্য কাজ করা ইউএন রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্ক এজেন্সি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছে, এটি আপত্তিজনক এবং বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি একটি স্পষ্ট অবহেলা।

এদিকে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এই হামলাকে গণহত্যা এবং মানবতার জন্য লজ্জা বলে অভিহিত করেছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি জারি করে ব্যাখ্যা করেছে যে হাসপাতালটি বেসামরিক নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

‘হাসপাতালটি শত শত অসুস্থ ও আহতদের আবাসস্থল ছিল এবং লোকজনকে তাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল,’ মন্ত্রণালয় বলেছে।

হাজার হাজার পরিবার আপাতদৃষ্টিতে অবিরাম ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গোলাগুলি থেকে আশ্রয় চেয়ে গাজার হাসপাতালে ভিড় করেছে।

ঘটনাস্থল থেকে আল জাজিরার ফুটেজে দেখা গেছে, চিকিৎসক ও বেসামরিক ব্যক্তিরা সাদা ব্যাগ বা কম্বল দিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করছেন। অন্ধকার হাসপাতালের উঠানে রক্তের দাগ এবং একাধিক অগ্নিদগ্ধ গাড়ি দৃশ্যমান ছিল।

প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ (পিএনআই) রাজনৈতিক দলের নেতা মুস্তাফা বারঘৌতি আল জাজিরাকে বলেছেন, হাসপাতালে হামলা বিশ্ব নেতাদের ইসরায়েলের প্রতি তাদের সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য উৎসাহিত করবে।

‘বিশ্বের কেউ কোনো দেশে হাসপাতালে আক্রমণ করে না,’ বারঘৌতি বলেন। ‘তারা কি এই ইসরায়েলি গণহত্যার নিন্দা করবে? তারা কি ইসরায়েলের এই আচরণের নিন্দা করবে? তারা জানে তারা ইসরাইলকে থামাতে পারবে। তারা জানে তারা ইসরায়েলকে আটকাতে পারবে। তারাই এই ইসরায়েলি হানাদারদের অস্ত্র, অর্থ ও সমর্থন দিচ্ছে।’ বলেন তিনি।

বারঘৌতি যোগ করেন, তিনি অনুভব করেছেন যে ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রায় ৩,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.