যুদ্ধের অজুহাতে টিকিট বাতিল করে ফের বাড়তি দামে বিক্রি

প্রশ্নের মুখে কাতার এয়ারওয়েজ

যুদ্ধের অজুহাতে টিকিট বাতিল করে ফের বাড়তি দামে বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে কারণ দেখিয়ে একের পর এক অগ্রিম টিকিট বাতিল করছে Qatar Airways—এমন অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে বাতিল করা ফ্লাইটের টিকিট উচ্চমূল্যে পুনরায় বিক্রির তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মাসিয়াত আসাদ জানান, আগামী মে মাসে তার বাংলাদেশে আসার কথা ছিল এবং সে অনুযায়ী আগেই কাতার এয়ারওয়েজের টিকিট কেটে রেখেছিলেন। হঠাৎ করে এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ইমেইলের মাধ্যমে তাকে জানানো হয় যে তার টিকিট বাতিল করা হয়েছে। তবে পরে তিনি দেখতে পান, একই তারিখের ফ্লাইটের টিকিট আবার বিক্রি হচ্ছে, তাও আগের তুলনায় অনেক বেশি দামে। তার ভাষায়, “এটি এক ধরনের প্রতারণা, যেখানে যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলে অতিরিক্ত মুনাফা করা হচ্ছে।”

এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু একটি নয়—এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেশ কিছু অগ্রিম বুকিং বাতিল করা হয়েছে। অথচ অনলাইনে গিয়ে দেখা গেছে, একই সময়ের জন্য ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি অব্যাহত রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এতে প্রশ্ন উঠেছে, টিকিট বাতিলের পেছনে প্রকৃত কারণ নিরাপত্তাজনিত নাকি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শেষ মুহূর্তে টিকিট বাতিল হওয়ায় তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেঙে পড়ছে এবং বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে নতুন টিকিট কিনতে হচ্ছে। এতে এয়ারলাইন্সের প্রতি যাত্রীদের আস্থা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এভিয়েশন বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইট বাতিল হলে সাধারণত একই সময়ের জন্য পুনরায় টিকিট বিক্রি করা হয় না। যদি এমনটি ঘটে, তাহলে তা ভোক্তা অধিকার ও এভিয়েশন নীতিমালার প্রশ্ন তোলে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে Qatar Airways-এর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি, যাতে যাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.