পুজোর আগেই বাড়ছে ফ্লাইটের ভাড়া
জোর মরশুমে বাড়ছে বিমানভাড়া। উৎসবের সময়ে বাড়ি ফিরতে চাওয়া যাত্রীদের জন্য এরই মধ্যে টিকিটের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
জোর মরশুমে বাড়ছে বিমানভাড়া। উৎসবের সময়ে বাড়ি ফিরতে চাওয়া যাত্রীদের জন্য এরই মধ্যে টিকিটের দাম বাড়তে শুরু করেছে। তবে বিমানভাড়ার ওপর নির্দিষ্ট কোনো সীমা আরোপের পথে যাচ্ছে না ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ যাতে না পড়ে, সে বিষয়ে বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া সাধ্যের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু।
এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, উৎসব বা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের সময়ে বিমানভাড়া নিয়ে সরকার নিয়মিত বিভিন্ন বিমান সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে। এবারও একইভাবে সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলা হবে। তবে এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো ভাড়া-সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, উৎসবের সময়ে যারা বাড়ি বা অন্য গন্তব্যে যাতায়াত করেন, তাদের যেন অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ সামলাতে না হয়, সে বিষয়টি বিমান সংস্থাগুলোকে জানানো হবে।
বিমানভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন নাইডু। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দাম বেড়েছে। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে।
নাইডুর ভাষ্য, বিমান সংস্থাগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের একটি বড় অংশ জ্বালানি খাতে যায়। ফলে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দামে সামান্য পরিবর্তন হলেও তার প্রভাব বিমানভাড়ায় পড়তে পারে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ভারতে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দাম ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে বিমান সংস্থাগুলোকে ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে।
এদিকে আর্থিক সংকটে থাকা স্পাইসজেটকে জরুরি ঋণ সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ১৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, এই সহায়তার মাধ্যমে বিমান সংস্থাটিকে আর্থিক চাপ সামলাতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। বাকি অর্থ পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও ব্যাংকের মধ্যে চলমান প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
নাইডু বলেন, সরকারের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যাত্রী পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা। বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের আপস করা হবে না। একই সঙ্গে বিমান সংস্থাগুলো যাতে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দিতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া হাব অ্যান্ড স্পোক মডেলে পরিচালিত বিমান পরিষেবাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি না থাকে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী।