এভিয়েশন সিকিউরিটি অর্থ হচ্ছেবেসামরিক উড়োজাহাজ উড্ডয়ন অবতরণ বা চলাচলের নিরাপত্তা। বিমানবন্দরের স্ক্রিনিং ব্যবস্থা ভেদ করে যাতে করে কোন ব্যক্তি উড়োজাহাজে বেআইনি হস্তক্ষেপ (unlawful interference) করতে না পারে তা প্রতিপালনের জন্য এই ব্যবস্থা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিরস্ত্র/সশস্ত্র অসামরিক নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে এই কাজের প্রতিবিধান করা হয়। বাংলাদেশেও এ ধরনের নিরাপত্তাকর্মী যাদের সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি বলে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে তারা বিমানবন্দরের পরিচালক বা বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের তত্ত্বাবধানে কাজ করে থাকেন। পৃথিবীর অনেক বিমানবন্দরে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। আবার পুরো প্রক্রিয়া স্থানীয়/জাতীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমেও সম্পাদিত হয়।
যুক্তরাজ্য সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাজ্যমুখী ফ্লাইটগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে রিপোর্ট করে থাকে RASLO (Regional Aviation Security Liasion Officer) । গত ১১ নভেম্বর (২০২৫) এর পরিদর্শনের পরপরই গত ১৫ ডিসেম্বর (২০১৫) RASLO এর ঢাকা বিমানবন্দর পরিদর্শনে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ উঠে আসে।
১১ নভেম্বর মূল্যায়নে পর দুই দফায় বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি লিখিতভাবে RASLO এর পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানায়।
প্রথমবার কার্গো নিরীক্ষণে বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্তে; দ্বিতীয়বার অন্যান্য নিরাপত্তা সূচকগুলিকে আরো শক্তিশালীকরণ সম্পর্কে।
পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিলঃ
ক) বিমানবন্দরের সাধারণ নিরাপত্তা; খ) ভবনের সম্মুখভাগের নিরাপত্তা; গ) যাত্রী ও কেবিন ব্যাগেজের তল্লাশি; ঘ) হোল্ড ব্যাগেজের নিরীক্ষণ, সুরক্ষা; ঙ) বিমান পাহারা ও এপ্রোনের নিরাপত্তা; চ) বিমানে ওঠার সময় তল্লাশি-নিরীক্ষণ; ছ) বিমানবন্দরে প্রবেশকারী কর্মী ও তাদের বহনকৃত আইটেমের নিরীক্ষণ; ঝ) ইন-ফ্লাইট সাপ্লাই (আইএফএম ); ঞ ) অন্যান্য।
মূলতঃ গত ১৫ ডিসেম্বর (২০১৫) যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করে যে রিপোর্ট দিয়েছেন সেখানে তারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সেখানে প্রধানত যে দিকগুলোর উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্তরের স্ক্রিনিং ব্যবস্থার অক্ষমতা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে স্বল্প সংখ্যক ব্যাগেজই তল্লাশি করা হয়। শরীর তল্লাশীর ব্যবস্থা আশানুরূপ নহে। কেবিনে বহনযোগ্য ব্যাগ এর তল্লাশী ব্যবস্থা আরো নাজুক বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাগেজ তল্লাশীর কাজটি দায়সারাভাবে করা হয় এবং ব্যাগেজগুলোর চেকপরবর্তি নিরাপত্তা দৃশ্যমান নয়। সিআইপি এবং ভিআইপি গেটে প্রত্যেককে তল্লাশী করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়না। তাছাড়া আরো বলা হয়েছে, বহিরাগমন/প্রত্যাগমন এর প্রত্যেক গেটে একটি ঢাউস আকারের গতানুগতিক এক্স-রে মেশিন রাখা থাকে, সেখানে যাত্রীদের উপস্থাপনের/প্রদর্শনের জন্য কোন ট্রে নেই, কক্ষ নেই, নেই কী করণীয় তার নির্দেশনা সংবলিত কোন লেখা।
এছাড়া মেশিনে কর্মরতদের সর্বদাই তাদের সহকর্মীদের সাথে আড্ডারত অবস্থায় দেখা যায়, মনিটরে চোখ রাখতে কিংবা মেশিনের ব্যবহারকে আরো উন্নততরকরণের উদ্দ্যোগ নেয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ দেখা যায়নি। যাত্রীদের ল্যাপটপ বা তরল জাতীয় দ্রব্য ব্যাগ থেকে বের করে দেখাতে বলা হয়, কিন্তু তা নিশ্চিত করা হয় না।
এক্সরে মেশিন প্রত্যক্ষণকারী বিরামহীনভাবে মেশিন চালিয়ে যান কিন্তু খেয়াল করেন না যে যৌক্তিক কারণে কোন কোন ব্যাগকে দ্বিতীয়বারও চেক করা যায়। কোন ব্যাগটিকে সন্দেহবশত তল্লাশী করতে হবে এ বিষয়ে এক্স-রে প্রত্যক্ষণকারী ও তল্লাশীকারীদের মধ্যে যোগাযোগহীনতা দৃশ্যমান। যদিও সন্দেহজনক কিছু থাকলেই শুধু ব্যাগ তল্লাশী করা হয়। দৈবচয়ন ভিত্তিতে কোন্ ব্যাগ তল্লাশী করতে দেখা যায় না।
শরীর তল্লাশীর মান অতি নিম্নমানের। ওয়াক-থ্রো মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় এ্যালার্ম বাজুক বা না বাজুক, সেই যাত্রীর গায়ে আলতোভাবে শুধু হাত বুলিয়ে দেয়া হয়।নারী যাত্রীকে একটি বিশেষ স্থানে ঢুকিয়ে তল্লাশী করার সময় তার লাগেজ অরক্ষিত অবস্থায় বাইরে রাখা হয়, সেখানে যে কেউ চাইলে ঐ ব্যাগে কিছু রেখে দিয়ে বিপদ ঘটাতে সক্ষম। মহিলা তল্লাশীর স্থানটি অপরিসর এবং সকল কর্মীদের বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবনের ব্যর্থতা এবং নিম্নমানের তদারকি পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তোলে।
হোল্ড ব্যাগেজের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, স্ক্রীনার এর নিজ কাজের প্রতি মনোযোগ নাই এবং সারাক্ষণই অসতর্ক এবং বিক্ষিপ্ত থাকেন। স্ক্রীনকৃত ব্যাগের খুব কম সংখ্যকই তল্লাশী করা হয়। হোল্ড ব্যাগেজে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশী করা হয় না। হোল্ড লাগেজের বহিরাবরণে ইটিডি (এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর) প্রয়োগ করা হলেও এর ভিতরে রাখা জিনিসের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
দ্বিতীয়ধাপের (সেকেন্ডারি) স্ক্রিনিং এর ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণে যা বলা হয়েছে তা হলোঃ
যুক্তরাজ্য কর্তৃক উপহার দেওয়া ইটিডি (এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর) কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয় না। কোন ইলেক্ট্রিক্যাল আইটেমকে ইটিডি কর্তৃক পরীক্ষাকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছিল না এবং এই ধাপে কোন ব্যাগ তল্লাশীর ঘটনা চোখে পড়েনি।
স্টাফদের স্ক্রিনিং এবং তাদের সাথে থাকা মালামালের তল্লাশী প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে তা হলো, এয়ারপোর্টে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের এক্স-রে মেশিনে নিরীক্ষণ বা শরীর তল্লাশী বলতে নামকাওয়াস্তে শরীরে হাতে ধরা মেটাল ডিটেক্টর বুলানো। সিআইপি এবং ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশকারী স্টাফদের তল্লাশীর অবস্থাও খুবই করুণ। তাছাড়া প্রবেশ পথে স্টাফ কর্তৃক প্রদর্শনযোগ্য আইটেম চেকিং এর বিষয়টি আশাব্যঞ্জক নয়।
কার্গো এলাকায় চেকিং এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কার্গো এলাকায় তল্লাশীর জন্য কোন ইটিডি সুবিধা নাই। কার্গো এলাকায় হাত দিয়ে তল্লাশীর সুযোগ সুবিধা অপ্রতুল।
বিবিধ বিষয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে যা বলা হয়েছে তা হলোঃ
ডিউটি ফ্রি আইটেমগুলোতে এক্সরে স্ক্রিনিং হচ্ছে কিন্তু হাত দিয়ে তল্লাশী হচ্ছে না। এখানকার স্টাফদের তদারকি খুবই অকার্যকর। বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক, বিমানবন্দর ডিরেক্টরের তদারকি কেবল স্টাফদের সাথে হৈচৈ, চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্টাফদের কাজের জন্য প্রশিক্ষণ বা মনিটরিং ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। তদারকির এই বেহাল দশার মূল কারণ যোগ্য কর্মীর অভাব।
বিমানবন্দরের ল্যান্ড সাইড ও এপ্রোনের নিরাপত্তা বিষয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হিসাবে দায়িত্বপালনরত এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ করে ল্যান্ড সাইড, র্যাম্প ও এয়ারফিল্ডে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থেকে ডিউটির পাশাপাশি টহল ডিউটি করে থাকে।
তাছাড়া এয়ারপোর্টে প্রবেশমুখ হতে শুরু করে সকল জায়গায় এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপস্থিতি দৃশ্যমান। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক পর্যাপ্ত তদারকির বিষয়টিও অনুভূত হয়। বিমানবন্দরের চারপাশে সুরক্ষামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে। হিথ্রোগামী বাংলাদেশ বিমানের প্লেন এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ও বিমান প্রতিনিধি কর্তৃক সামনে পেছনে কার্যকরভাবে সুরক্ষিত থাকে, বিধায় বিনা বাধায় কেউ প্লেনে প্রবেশ করতে সক্ষম নয়। যে কেউ প্লেনে উঠতে চেষ্টা করলে তাকে প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রদর্শন সাপেক্ষে সিঁড়ি ব্যবহার করে উঠতে দেওয়া হয়। নিরীক্ষণের পর কার্গোগুলিকে প্লেন পর্যন্ত পৌছে দেয়ার সময় সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।
এখানে উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালের ১৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০ম গোয়েন্দা সমন্বয় সভায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় এপিবিএন নিয়োজিত করা হলেও যাত্রী/লাগেজ/কার্গো মালামাল তল্লাশি জন্য এপিবিএন মোতায়েন করা হয়নি। যাত্রী/ব্যাগেজ/কার্গো মালামাল তল্লাশি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃক সম্পন্ন করা হচ্ছে ।
সিএএবি চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র নিরাপত্তা বা উপদেষ্টারা তাদের স্টাফদের সামর্থ্য ও তদারকি কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে বারংবার হতাশা প্রকাশ করেন বলেও এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। বিমান বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এ্যাভসেক বিভাগ গঠনের পরিকল্পনার বিষয়টি রিপোর্টে বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে।
RASLO এর রিপোর্টের পরে গত ৫ জানুয়ারি (২০১৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তদারকি ও স্ক্যানিং এর মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহায়তা করার জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫০ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়।এ প্রেক্ষিতে বিমানবাহিনী হতে ১০০ জন, পুলিশ হতে ১০০ জন এবং আনসার হতে ৫০ জন সদস্যে মোতায়েন করা হয়েছে বা হচ্ছে।
সিভিল এভিয়েশন শুরুতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি অধিদপ্তর ছিলো। তখন একজন উইং কমান্ডার এর মহাপরিচালক ছিলেন। এরপর সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সময় একে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়ে রূপদান করলে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ গঠন করে এর চেয়ারম্যান পদে বিমানবাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তা যেমন এয়ার কমোডর/এয়ার ভাইস মার্শালকে দায়িত্ব দেয়া হয়। বর্তমানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ মেম্বার অপারেশন বিমানবাহিনী থেকে প্রেষণে আসা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। তৃতীয় সর্বোচ্চ পদের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালকসহ, পরিচালক ফ্লাইট সেফটি বিমানবাহিনী থেকে প্রেষণে এসেছেন। তাছাড়া চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরের দায়িত্বে আছেন একজন উইং কমান্ডার। তাছাড়া এভসেক নামের একটি সেলে আছেন বিমানবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন এবং বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার। গত ৪০ বছর ধরে যারা সিভিল এভিয়েশনের সিকিউরিটিসহ যাবতীয় কাজ দেখভাল করছেন তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই এসেছেন বিমানবাহিনী থেকে প্রেষণে অথবা চুক্তি ভিত্তিতে।
যারা বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের বেশিরভাগই দৈনিক ভিত্তিতে, মাস্টার রোলে অত্যন্ত নিম্নমানের মুজুরিতে নিয়োজিত।এদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্নসময়ে বিভিন্নভাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং কেউ কেউ চাকরি স্থায়ী করেছেন। এদের কখনো ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি। কিন্তু আজ বলা হচ্ছে স্ক্রিনিং এর দায়িত্বে থাকা কমর্চারীগণ তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তাই নিরস্ত্র অসামরিক এই নিরাপত্তাকর্মীর রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে যাদের পেছনে অন্তত ১০ গুণ বেশী বিনিয়োগ হয়েছে সেই ধরনের সামরিক বা অস্ত্রধারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এখানে একটি ব্যাপার অবশ্যই খেয়াল রাখার বিষয় যে, বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুইটি বাহিনী অর্থাৎ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং কোস্ট গার্ড যথাক্রমে সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনীর প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। তাছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সামরিক কর্মকর্তা পুলিশের এলিট ইউনিট র্যাবে কর্মরত আছেন। কিন্তু এইসব ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় হয়নি বরং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক অস্ত্রধারি বাহিনীর মধ্যে প্রেষণে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু নিরস্ত্র অসামরিক নিরাপত্তা সংস্থা যারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে আছে তাদের রিপ্লেস হিসেবে সামরিক সদস্যদের নিয়োগের নজির বাংলাদেশে ছিলোনা। সারা দুনিয়ার অন্যান্য বিমানবন্দরে এই ধরনের নজির নেই।
এখানে এই বিষয়টিও উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ব্রিটিশ টিমের কথা আমরা এতো আলোচনা করছি তাদের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা তথা হিথ্রো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দেখে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের এভিয়েশন সিকিউরিটি। পুলিশ সদস্যরা হিথ্রো বিমানবন্দরে সশস্ত্র এবং নিরস্ত্র শাখায় ভাগ হয়ে এভিয়েশন সিকিউরিটি দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া নাইন ইলেভেনের পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি এ্যাডমিনিস্ট্রেশন নামে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিরস্ত্র সিকিউরিটি এই বাহিনী-ই বিমানবন্দরের স্ক্রিনিং দেখে থাকে আর প্রত্যেকটি বিমানবন্দরে আছে স্ব-স্ব সশস্ত্র এয়ারপোর্ট পুলিশ। ভারতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দেখে ভারতীয় সশস্ত্র পুলিশ ফোর্সের অধিনে থাকা সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স এবং ভারতীয় বিমানপত্তন প্রাধিকরণের আওতায় থাকা অসামরিক নিরাপত্তা কর্মী ।বিমানবাহিনীর নিয়মিত সদস্য দিয়ে বিমানবন্দরের স্ক্রিনিং এর মত নিরস্ত্র বাহিনীর কাজ করানোর নজির বিশ্বের কোন দেশে হয় বলে আমাদের জানা নাই। অসামরিক নিরস্ত্র বাহিনী ব্যর্থ হলে পুলিশ দিয়ে করানো হয় আর তারা ব্যর্থ হলে সেনাসদস্যদের দিয়ে করানো হয়। কিন্তু তা জরুরি অবস্থারই প্রকারান্তর।
উল্লেখ্য, গত সামরিক শাসনামলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বিমানবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলে আর কোন বাহিনী ব্যবহার করা হবে এই নিরস্ত্র বাহিনীর কাজে তা জানা যায়নি।
তাই বলা যায়, প্রথা মানার কথা, চাকা পুনরাবিষ্কার নয়। নিয়োগ ভালো করুন, প্রশিক্ষণে ব্যয় বাড়ান, অসামরিক নিরস্ত্র বাহিনীর কাজ অনেক অনেক বেশি বিনিয়োগে তৈরি হওয়া সামরিক সদস্যদের দিয়ে করালে পরবর্তিতে তাদের মাঝে সামরিক মেজাজ ধরে রাখা যাবে কীনা এই বিষয়টি হয়তো এই অপরিণামদর্শি চিন্তার অন্তরালে চলে যাবে। আর বাংলার আকাশ মুক্ত রাখার শপথে থেকে নিরস্ত্র অসামরিক বাহিনীর কাজে বিমানসেনাদের নামিয়ে আনলে তা আকাশ থেকে আকাশে না নিয়ে অতল থেকে অতলে নিয়ে গেলে এর মূল্য আমরা কি পরিশোধ করতে পারবো?
লেখকঃ মোঃ আলমগীর হোসেন শিমুল,এভিয়েশন সিকিউরিটির উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত।
