বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ জিতবেই

5bf84986957c8ff83dcd8c61151716da-8পদ্মশ্রী খেতাব পাওয়া, ভরতনাট্যমের গুরু, প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী লীলা স্যামসন সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও জাতীয় জাদুঘরে ‘রূপ বাহুল্য’ উৎসবে নাচ করেছেন তিনি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় তিন দিনের এই উৎসব আয়োজন করে সাধনা ও সৃষ্টি। এরপর তিনি ভরতনাট্যম নাচের কর্মশালা পরিচালনা করেছেন। তার ফাঁকে গত ২৫ এপ্রিল রাতে লীলা স্যামসনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাঁর শিষ্য, সৃষ্টির পরিচালক ও নৃত্যশিল্পী আনিসুল ইসলাম হিরু।
বাংলাদেশে অনেক দিন পর এলেন। কেমন লাগছে?

খুবই ভালো। এ দেশের মানুষ উদার মনের। অনেকের মধ্যে শৈল্পিক গুণ আছে এবং তাঁরা সবার ভালো কামনা করেন। বাংলাদেশের দর্শকেরা অনেক বোদ্ধা। সেই কারণে যেকোনো শিল্পী এখানে অনুষ্ঠান করতে আগ্রহী।

 

নাচের সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?

আমার বয়স যখন সাত বছর, তখন বাবা ও মা আমাকে কলাক্ষেত্র নাচের স্কুলে ভর্তি করে দেন। অবশ্য এর পেছনে কারণও ছিল। আমার বাবা ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। বিশেষ প্রশিক্ষণে ছয় মাসের জন্য ইংল্যান্ড চলে যান। তখন আমাকে নিয়ে যেতে পারছিলেন না। তাই কলাক্ষেত্রে রেখে যান। সেই থেকেই নৃত্যের শুরু।

 

আপনার বাবা ও মা সম্পর্কে বলুন।

আমার বাবা ছিলেন ইহুদি আর মা ছিলেন ক্যাথলিক, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। মা ছিলেন উর্দুভাষী আর বাবা মারাঠিভাষী। ধর্মীয় দিকে দুজন ভিন্ন ধর্মের। আমার বাবা বি এ স্যামসন ছিলেন ভারতীয় নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল।

 

আপনি বই লিখেছেন।

আমি শাস্ত্রীয় নাচের বই লিখেছি, রিদম ইন জয়। বইটি অনেকগুলো ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। তা ছাড়া আমার গুরু রুকমিনী দেবীর জীবনী লিখেছি।

 

আপনি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন।

আমি চাইনি। আমার বাবা-মা চেয়েছিলেন। তাই তাঁরা আমাকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিতে নিয়ে যান। তত দিনে আমি বেশ নাচিয়ে হয়ে গিয়েছিলাম। পরে মেডিকেল কলেজের অধ্যাপকেরা আমার বাবা-মাকে ডেকে বললেন, এ দেশে অনেক সার্জন আছেন, তাঁদের কতজন চেনেন? আপনার মেয়ে ভালো নৃত্যশিল্পী, ওকে আপনারা শিল্পী হতে দেন। তারপর স্নাতক শেষ করে কলাক্ষেত্রে ফিরে আসি এবং নৃত্যে মন দিই।

 

আপনার কাছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নাচ শিখতেন?

রাজীব ও সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কার বয়স যখন ছয়-সাত, তখন থেকে আমার কাছে নাচ শিখতে শুরু করে। প্রিয়াঙ্কা অনেক নম্র, ভদ্র ও পরিশ্রমী মেয়ে। ও অনেক ভালো নাচ শিখেছিল।

 

আপনি দিল্লিতে ছিলেন। চেন্নাই চলে গেলেন কেন?

চেন্নাই আমার কাছে সব সময় প্রথম পছন্দের ছিল। আমার গুরু রুকমিনী দেবী ও তাঁর সহকর্মীদের মৃত্যুর পর কলাক্ষেত্র অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে। দায়বদ্ধতার কারণেই আমি কলাক্ষেত্রের হাল ধরি। চেন্নাই যেহেতু ‘ভরতনাট্যম’-এর বিদ্যাপীঠ, তাই আমি চেন্নাই থাকতে এবং সেখানে শিল্পচর্চা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

 

আপনার বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে কিছু বলুন।

আমি ভারতীয় ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের চেয়ারপারসন ছিলাম এবং একই সঙ্গে সংগীত নাটক একাডেমির চেয়ারপারসন ছিলাম। আমি ওখানে অনেক উপভোগ করেছি, বিশেষ করে ফিল্ম সেন্সরের আগে ছবি দেখা, ছবি সম্পর্কে কথা বলা—আমি অনেক তরুণ পরিচালকের কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অনেক বড় এবং বিশাল বিনিয়োগ। তাই বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতাও হয়। ওখানে অনেক কঠিন কাজ হয়। যেহেতু আমি একজন শিল্পী, আমি অন্য মাধ্যমের শিল্পীদেরও সম্মান করি।

 

নৃত্যশিল্পীরা অভিনয় করতে পারেন?

অবশ্যই। যাঁরা শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী, তাঁরা অনেক ভালো অভিনয় করতে পারেন। কারণ, সব শাস্ত্রীয় নৃত্যেই অভিনয় অংশ আছে। সুতরাং দক্ষ নৃত্যশিল্পীদের অভিনয়ে পারদর্শী হতে হয়।

 

সম্প্রতি আপনি দুটো ছবিতে অভিনয় করেছেন।

আমার অভিনয়ের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। মণিরত্নম আমাকে তাঁর অফিসে ডেকে পাঠান এবং একজন আলঝেইমার রোগীর চরিত্রে অভিনয় করতে বলেন। মণিরত্নমের মতো পরিচালককে ফিরিয়ে দেওয়া কঠিন কাজ। তাই তাঁর ছবিতে কাজ করেছি। তামিল ভাষার এই ছবির নাম ওকে কানমানি। পরে গুলজার সাহেবের স্ক্রিপ্টে একই ছবির হিন্দি ভার্সনে অভিনয় করেছি নাসিরউদ্দিন শাহের সঙ্গে।

 

নাসিরউদ্দিন শাহের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতার কথা বলুন।

তিনি বড় মাপের শিল্পী, কিন্তু অনেক ভালো মনের মানুষ। খুবই সহযোগিতা করেছেন। ছবিতে নাসিরউদ্দিন শাহ আমার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর সঙ্গে পর্দায় আমার বোঝাপড়াটা অনেক ভালো ছিল।

 

অবসরে কী করেন?

আমার অবসর অনেক কম। যখন অবসর পাই, বই পড়ি, মিউজিক শুনি। নাচ নিয়ে ভাবি।

 

শেষ প্রশ্ন, আপনি ক্রিকেট ভক্ত?

হ্যাঁ, সব সময় ক্রিকেট খেলা দেখি। ক্রিকেট আমার অনেক পছন্দের। বাংলাদেশের ক্রিকেট খুবই ভালো লাগে। গত আসরে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ দলের যাওয়া উচিত ছিল। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল একদিন বিশ্বকাপ জিতবেই। বাংলাদেশের সবার জন্য আমার অনেক শুভকামনা রইল।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.