যেভাবে ১৪২ যাত্রীর প্রাণ বাচিয়েছিলেন বীর ক্যাপ্টেন নওশাদ

নওশাদ বাংলাদেশ বিমানের একজন দক্ষ পাইলট ছিলেন। তার দক্ষতায় ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর বেঁচেছিল ১৪৯ যাত্রী। সঙ্গে ছিলেন ক্যাপ্টেন (প্রধান পাইলট), ফার্স্ট অফিসার (পাইলট) আর পাঁচজন কেবিন ক্রু।

২২ ডিসেম্বর রাত তিনটার দিকে ওমানের মাস্কাট বিমানবন্দর থেকে দেড় শতাধিক আরোহী নিয়ে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বিমানটি উড্ডয়নের সময় একটি চাকা বিকট শব্দে ফেটে যায়। তবুও বিমানটি আকাশে উড়ানোর পর আর মাস্কাট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে সেটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়।

১৮ টন জ্বালানি আর ৬০ টন ওজনের বিমানটির। সব মিলিয়ে ৭৮ টন ওজনের বিমানটি জরুরি অবতরণ ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। একটু এদিক-সেদিক হলেই বিস্ফোরিত হতো উড়োজাহাজটি। প্রাণ যেতে পারত সব আরোহীর। তবে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা চালিয়ে ঢাকায় জরুরি অবতরণ করান বিমানটি। ওই সময়ে তার সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট অফিসার মেহেদী হাসান।

এর স্বীকৃতি হিসেবে বৈমানিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএএলপিএ) প্রশংসাপত্র পেয়েছিলেন নওশাদ।

আর মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো মধ্য আকাশে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হওয়ার পরও শতাধিক যাত্রীকে বাঁচিয়েছেন এ বৈমানিক।

ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম ২০০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে এস-২০৮ উড়োজাহাজে ফাস্ট অফিসার পদে যোগ দেন। সেখান থেকে এয়ারবাস সি ৩১০-এ ফাস্ট অফিসার হিসেবে প্রমোশন পান। এর পর ৭৭৭-৩০০ সিআর উড়োজাহাজের ফাস্ট অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পান। পরে সি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজেরর ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। পাইলট নওশাদের বাসা উত্তরাতে। নওশাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে আমেরিকাতে তার স্ত্রীর সঙ্গে থাকে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.