১৩ দেশের ৩৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা বিধিনিষেধ
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল রোববার (১০ ডিসেম্বর)। এর আগে কয়েকটি দেশের কয়েক ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। খবর রয়টার্স।
ব্লিংকেন জানান, মার্কিন অর্থ বিভাগ ও পররাষ্ট্র বিভাগ ১৩টি দেশের ৩৭ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে ২০ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
এ পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে যুক্তরাজ্য ও কানাডা।
গত এক বছরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় এক ডজন দেশের দেড় শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থ বিভাগ নিষেধাজ্ঞা দিলে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়। মার্কিন নাগরিকেরাও তাদের সঙ্গে লেনদেন করলে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে থাকবেন।
অর্থ বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিযানের জন্য লোক নিয়োগে জড়িত থাকায় দুই ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছেন। এ দুই কর্মকর্তা হলেন মজিদ দাস্তজানি ফারাহানি ও মোহাম্মদ মাহদি খানপুর আরদেস্তানি। তারা সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে অভিযোগ।
নারী ও মেয়েদের নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তালেবান সরকারের দুই মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল ‘জিনজিয়াংয়ে চলমান গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ সঙ্গে জড়িত মধ্যম পর্যায়ে দুই কর্মকর্তা আছেন তালিকায়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেছেন, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ব্যাপকভাবে হস্তক্ষেপ করে। এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন ও চীন-মার্কিন সম্পর্ককে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। চীন দৃঢ়ভাবে এর বিরোধিতা করে।
এছাড়া চীনে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের শ্রমে বাধ্য করার সঙ্গে জড়িত চারটি কোম্পানি থেকে আমদানি নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞাগুলো যথেষ্ট নয়। এটি জিনজিয়াংয়ের চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) প্রধান মা জিনরুইসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বলেন, মানবাধিকারের স্বীকৃতি ও রক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিগুলোর একটি। আমরা সবসময় মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কখনো এর অন্যথা হবে না।
তালিকায় আরো রয়েছে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর ইসলামিক স্টেটের নেতা, হাইতির চারটি অপরাধচক্রের প্রধান ও উগান্ডার কারা কর্মকর্তা। গত মে মাসে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর সমকামী বিরোধী আইন প্রণয়ন করে উগান্ডা। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া লাইবেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কিছু ব্যক্তি ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
