ন্ডনপ্রবাসী শাহানা আক্তারের স্বামী মারা গেছেন। জরুরি ভিত্তিতে তাই তিনি দুই সন্তান নিয়ে সিলেট আসবেন। বাংলাদেশ বিমানে টিকিট বুকিং দিতে গিয়ে জানলেন, মাত্র একটি আসন খালি। বাধ্য হয়ে দুই সন্তানকে রেখে একাই উড়োজাহাজে ওঠেন শাহানা। উঠেই জানলেন, উড়োজাহাজটির ৮০টি আসন ফাঁকা।
লন্ডন থেকে শাহানা আক্তার সিলেটে এসে মৃত স্বামীর মরদেহের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেও মনে ছিল হতাশা, কষ্ট ও ক্ষোভ। কারণ, বিমান বাংলাদেশের অসাধুতার কারণে তাঁর দুই সন্তান তাদের বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেল না। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে গতকাল রোববার এ ঘটনার বর্ণনা দেন কমিটির সদস্য কামরুল আশরাফ খান। তিনি জানান, গত শনিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে এ ঘটনা ঘটে।
বৈঠক সূত্র জানায়, কমিটি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত করে আগামী বৈঠকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।
বৈঠক শেষে কামরুল আশরাফ খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘৮০টি আসন ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও বিমান শাহানা আক্তারের পিতৃহারা দুই সন্তানকে টিকিট দেয়নি। ঘটনাটি মর্মান্তিক ও অমানবিক। আমার একজন নিকট আত্মীয় এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।’
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা জেনেছি বিমানে প্রায়ই আসন নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে এমন প্রতারণা করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’