মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট অচলাবস্থায় কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসংখ্য প্রবাসী শ্রমিক। কুয়েতে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি পাঁচ থেকে ছয় হাজার নারী শ্রমিক রয়েছেন। যারা দেশটির বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ক্লিনিংয়ের কাজ করেন। করোনা বিস্তার রোধে কুয়েত সরকার ঘোষিত লকডাউনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া প্রায় দুই মাস ধরে সবকিছু বন্ধ রয়েছে।
এতে অল্পকিছু সংখ্যক নারী শ্রমিকের কাজ থাকলেও কাজ নেই অনেকেরই। কোম্পানির ডিউটি শেষে বাসা-বাড়িতে পার্টটাইম কাজ করা শ্রমিকেরও কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।
ফলে কর্মহীন হয়ে কষ্টে দিন যাপন করছেন এইসব নারী শ্রমিক। তাদের সঙ্গে কমিউনিটির কোনো সংগঠনের সম্পর্ক না থাকায় কোনো সহযোগিতাও পাচ্ছেন না তারা।
এক নারী শ্রমিক জানান, লকডাউন এলাকায় থাকার ফলে আমরা বের হতে পারছি না, আবার কারো কাছ থেকে সহযোগিতাও পাচ্ছি না। কেউ এক বেলা খেয়ে আবার কেউ না খেয়ে দিন পার করছেন।
দেশটির লকডউন একালা জিলিব আল সুয়েকের চার নম্বর ব্লকের একটি ব্যারাকে সাড়ে ৮০০ নারী শ্রমিকের পাশে খাদ্য সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক প্রবাসী কবি পরিষদ (আপ্রকপ) ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কুয়েত প্রবাসী লেখিকা ও সাংবাদিক নাসরিন আক্তার মৌসুমী জানান, বর্তমান এই করোনা দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে পুরুষ শ্রমিকরা বিভিন্ন সংগঠন ও নানাভাবে খাদ্য সংগ্রহ ও সহায়তা পেলেও নারী শ্রমিকদের সেই সুযোগ নেই। তাই আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে তাদের সহযোগিতা করছি। যা তাদের চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। আমাদের আপ্রকপ ফাউন্ডেশনের এই ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় যদি কুয়েতের ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির বিত্তবান নেতারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে তাদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হত।