বিদেশ থেকে অবৈধ পথে বা হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে সতর্ক করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বলেছে, হুন্ডি বা অবৈধ পথে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বুধবার বিএফআইইউয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাদের প্রিয়জনদের উদ্দেশে বিএফআইইউ জানায়, কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে (হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে) পাঠানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ‘আপনাদের অর্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে না পাঠিয়ে বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে প্রেরণ করুন। দেশ গড়ায় মূল্যবান অবদান রাখুন এবং আপনার প্রিয়জনকে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ রাখুন।
সূত্র জানায়, দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসা বেশ কমে গেছে। হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বিদেশেও হুন্ডিবাজরা সক্রিয় রয়েছে। তারা বিদেশ থেকে ডলার সংগ্রহ করে সেখানেই রেখে দিচ্ছে। বিনিময়ে দেশে থাকা প্রবাসীদের কাছে স্থানীয় টাকায় অর্থ পরিশোধ করছে।
এর আগে অর্থমন্ত্রী তার নিজস্ব গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন, দেশে মোট রেমিট্যান্সের ৪১ শতাংশই আসে হুন্ডির মাধ্যমে। বাকি ৫৯ শতাংশ আসে ব্যাংকিং চ্যানেলে।
এর আগে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এক জরিপে বলা হয়েছে, দেশে মোট রেমিট্যান্সের ৪০ শতাংশ আসে ব্যাংকিং চ্যানেলে। বাকি ৬০ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ আসে হুন্ডিতে এবং বাকি ৩০ শতাংশ আসে নগদ আকারে। যার বড় অংশই চলে যায় কার্ব মার্কেটে।
দেশে প্রতি মাসে আগে গড়ে ২০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসত। বর্তমানে তা কমে ১৫৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। রেমিট্যান্সের একটি অংশ হুন্ডিতে আসায় ব্যাংকিং চ্যানেলে কমে গেছে।
