ম্যাকার্থির বৈঠকের পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেছেন ‘গণতন্ত্র হুমকির মুখে’

চীনের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন।

গতকাল বুধবার মার্কিন হাউস স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থির সঙ্গে সাক্ষাতে সতর্ক বার্তা দেন এই বলে, ‘গণতন্ত্র হুমকির মধ্যে রয়েছে’। খবর সিএনএন।

ক্যালিফোর্নিয়ার সিমি ভ্যালির রোনাল্ড রিগান প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ কথা বলেন সাই। সেখানে ছিলেন ম্যাকার্থি ও মার্কিন আইন প্রণেতাদের দ্বিদলীয় প্রতিনিধি দল।

গত আগস্টে তৎকালীন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর দ্বিতীয়বারের মতো একই পদের মার্কিন আইনপ্রণেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের। সাই স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটি প্রথম রাষ্ট্রপতি যিনি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হাউস স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছেন।

তিনি বলেন, এটা গোপন বিষয় নয় আমরা যে শান্তি বজায় রেখেছি ও গণতন্ত্র গড়ে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি তা আজ অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

আবারো বিশ্বের গণতন্ত্র হুমকির মুখে উল্লেখ করে জানান, স্বাধীনতার আলোকে সমুন্নত করার চেষ্টাকে দমানো যায় না।

এ সময় ম্যাকার্থি বলেন, তাইওয়ান ও মার্কিন জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব মুক্ত বিশ্বের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নৈতিক স্বাধীনতা, শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

দুই দেশ একসঙ্গে থাকলে শক্তিশালী হয় উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট।

এ বৈঠকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিবৃতি দিয়েছে বেইজিং। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, চীন দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করে ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের এই পদক্ষেপকে ‘গুরুতর ভুল’ উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়ায় চীন নিজেদের ‘সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য শক্তিশালী ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে’ বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

তাইওয়ান ইস্যু কাজে লাগিয়ে চীনের বিরুদ্ধে ‘ভুল ও বিপজ্জনক পথে’ ‍যুক্তরাষ্ট্রকে না যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

এদিকে সাই ও ম্যাকার্থির বৈঠকের আগে তাইওয়ানের উপকূলের কাছে বেশ কয়েকটি জাহাজ পাঠিয়েছে চীন।

এক বিবৃতিতে চীনের ফুজিয়ান মেরিটাইম সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানান, ওই এলাকায় তিন দিনের যৌথ টহল ও পরিদর্শন অভিযান পরিচালনা করছে বেইজিং। মধ্য ও উত্তর তাইওয়ান প্রণালীতে একটি বড় আকারের টহল ও উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানো হয়েছে।

বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে দশদিনের সফরে রয়েছে সাই ইং-ওয়েন। এর অংশ হিসেবে কূটনৈতিক মিত্র গুয়াতেমালা ও বেলিজে সরকারি সফরের ফাঁকে প্রতিনিধি দলটি ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিকল্পিত যাত্রাবিরতিতে রয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.